একটি বিমানকাণ্ড ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে উঠেছে বিস্ফোরক অভিযোগ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধে জড়ানোর

নেতানিয়াহু ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মিলে বিমান ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছেন

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৩:৫০ সময় , আপডেট সময় : ৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৩:৫০ সময়

একটি বিমানকাণ্ড ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে উঠেছে বিস্ফোরক অভিযোগ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধে জড়ানোর উদ্দেশ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান নাকি বিমান ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছেন—এমন দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। প্রেস টিভির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলা থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া এবং ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতেই এই কথিত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযান সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে কাজে লাগিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক আগ্রাসনের পরিবেশ তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল বলেও দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কেউ কেউ দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাই দুবাইয়ের বিমানকাণ্ডকে সাজানো ঘটনা বলে দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য, এর মাধ্যমে ইসরায়েলের নির্বাচনকে প্রভাবিত করা, অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হতে পারে। ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেলআবিবের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল ফ্লাই দুবাইয়ের একটি বিমান। ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।


পরে জানা যায়, বিমানের ক্যাপ্টেনের ওপর কো-পাইলট হামলা চালিয়ে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একজন অফ-ডিউটি পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেন। এরপর সৌদি আরবের তাবুকে বিমানটির জরুরি অবতরণ করা হয়। বিমানটিতে মোট ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে ২৭ জন শিশু। প্রেস টিভির প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বিমানকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে, গত রোববার নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাতে অত্যন্ত গোপন একটি সফর করেছিলেন। এর দুই দিন পরই ঘটে বিমানকাণ্ড।


ঘটনার পরপরই নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেন। এমনকি নেতানিয়াহু ঘটনাটির সঙ্গে ৯/১১ হামলার তুলনাও করেন। তবে প্রেস টিভির প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আগেই কেন এটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা সাজানো হামলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস এই দাবিকে ইহুদিদের ওপর দায় চাপানোর প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং এটিকে ইহুদি বিদ্বেষ বলেও অভিহিত করেছে।


অর্থাৎ, একটি বিমানকাণ্ডকে ঘিরে এখন মুখোমুখি হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বয়ান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযান হিসেবে দাবি করছে, আর ইসরায়েল সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে বিমানটির ভেতরে আসলে কী ঘটেছিল এবং ঘটনাটির পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯