মাল্টার দাম কেজিপ্রতি ৫২০ টাকা—কিন্তু আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর ও পরিবহন ব্যয় হিসাব করার পরও এত বেশি দামে ফলটি

মাল্টার দাম কেজিতে ৫২০ টাকা, ব্যাখ্যা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৩:৫২ সময় , আপডেট সময় : ৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৩:৫২ সময়

মাল্টার দাম কেজিপ্রতি ৫২০ টাকা—কিন্তু আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর ও পরিবহন ব্যয় হিসাব করার পরও এত বেশি দামে ফলটি বিক্রি হচ্ছে কেন? বাজারে মাল্টার অস্বাভাবিক দাম নিয়ে এবার সরাসরি ব্যাখ্যা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে সরবরাহ বাড়াতে ব্যবসায়ীদের দ্রুত ঋণপত্র বা এলসি খুলে মাল্টাসহ বিভিন্ন বিদেশি ফল আমদানির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।


শনিবার ৩ অক্টোবর সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ফলের সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সভায় মাল্টার বর্তমান বাজারদাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর এবং অন্যান্য ব্যয় হিসাব করার পরও কীভাবে প্রতিকেজি মাল্টার দাম ৫২০ টাকায় পৌঁছাচ্ছে। অস্বাভাবিক দামে মাল্টা বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না।


তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে সরবরাহ ঘাটতিতে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ দেশের স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিনই প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টার প্রয়োজন।আমদানিকারকেরা আরও জানান, উচ্চশুল্ক, পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের নানা জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী মাল্টা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এর সঙ্গে রয়েছে পচনশীল পণ্য সংরক্ষণ ও পরিবহনের ঝুঁকি। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে বলে দাবি করছেন তারা।


ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শোনার পর মাল্টার শুল্কসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত এলসি খুলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে মাল্টার সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি। শুধু মাল্টা নয়, সামনে খেজুরের চাহিদা বাড়বে বিবেচনায় ব্যবসায়ীদের এখন থেকেই আমদানির প্রস্তুতি নিতে বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। খেজুরের শুল্কের বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


খেজুরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের দীর্ঘদিনের জটিলতা সমাধানেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে। বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের আন্তর্জাতিক উৎসমূল্য যাচাই করে একটি যৌক্তিক নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপর এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে পাঠানো হবে।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্কায়ন ব্যবস্থা এমন হতে হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক মূল্যায়নের শিকার না হন। একই সঙ্গে পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগও রাখা যাবে না। সরকার ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষকেই স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো পক্ষ কারসাজির চেষ্টা করলে পুরো ব্যবস্থার ওপরই মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।


সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি জানান, বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের প্রকৃত ক্রয়মূল্য আলাদা হলেও শুল্কায়নের ক্ষেত্রে সেই পার্থক্য সব সময় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। তাই আন্তর্জাতিক বাজারদর ও উৎসমূল্য বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে খেজুর আমদানিকারকেরা জানান, আন্তর্জাতিক পরিবহন ও বন্দরের জটিলতার কারণে দেশে খেজুর পৌঁছাতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। তাই সময়মতো পর্যাপ্ত খেজুর আমদানি নিশ্চিত করতে শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রয়োজন।


সভায় ব্যবসায়ীরা বিকল্প উৎস থেকে মাল্টাসহ বিভিন্ন বিদেশি ফলের আমদানি বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও শুল্ক-কর, শুল্কায়ন এবং আমদানিপ্রক্রিয়ার যৌক্তিক সমস্যাগুলো পর্যালোচনার কথা জানানো হয়েছে। সভায় বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯