দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও মৃত্যু হলো না! যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতা এখন নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে পুরো মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থাকে। আর এই ঘটনার পরই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা। শনিবার টেনেসির গভর্নর বিল লি জানান, চলতি মাসেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা। তার এই পদত্যাগের ঘোষণা এসেছে এমন এক ঘটনার পর, যা টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ১০টা। প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে তার সাজা কার্যকর করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু তাকে দুই দফা পেন্টোবারবিটাল দেওয়ার পরও মৃত্যু হয়নি। বরং গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আইনজীবীদের দাবি, ইনজেকশন দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে ক্রিস্টাকে কাঁদতে এবং জোরে জোরে শ্বাস নিতে শোনা গেছে। পরে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের সহায়তায় তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আইনি নথিপত্র অনুযায়ী, ন্যাশভিলের একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।
ক্রিস্টা পাইকের বিরুদ্ধে একটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় পর টেনেসিতে কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনা ঘটত। কিন্তু দুই ডোজ প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়ার পরও তিনি বেঁচে যাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটিই থমকে যায়। এই ঘটনার পর ক্রিস্টার আইনজীবীরা তার মৃত্যুদণ্ড কমানোর আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে কারা বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডার পদত্যাগকে তারা যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। তবে তাদের বক্তব্য, স্ট্রাডার পদত্যাগ ক্রিস্টার বর্তমান পরিস্থিতির কোনো সমাধান নয়।
আইনজীবীরা বলছেন, ক্রিস্টার সঙ্গে যা ঘটেছে, তা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ব্যবস্থার সম্ভাব্য পদ্ধতিগত ব্যর্থতার ইঙ্গিত। তারা পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যবস্থার গভীর সমস্যাগুলো সামনে আসে। অন্যদিকে ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা জানিয়েছেন, দুই ডোজ ইনজেকশন দেওয়ার পরও ক্রিস্টা পাইক বেঁচে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। এই পরিস্থিতিতে টেনেসির মানুষের স্বার্থেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে এখনো বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে—কেন দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যু হলো না? মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি টেনেসির কারা কর্তৃপক্ষ। কারা বিভাগ অবশ্য তাদের অনুসরণ করা পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে অতিরিক্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমোদন তাদের কার্যকরী নীতিমালায় নেই। তবে ক্রিস্টা পাইকের ক্ষেত্রে ঠিক কী ঘটেছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিষ্কার হচ্ছে না।
এদিকে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংরক্ষণের জন্য গত শুক্রবার জরুরি আবেদন করেছেন ক্রিস্টার আইনজীবীরা। কারণ তারা মনে করছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ব্যবহৃত উপকরণ ও সংশ্লিষ্ট প্রমাণ ভবিষ্যতের তদন্ত এবং আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সব মিলিয়ে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতা এখন শুধু একজন দণ্ডপ্রাপ্ত নারীর বিষয় হয়ে থাকেনি। বরং এটি টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি, কারা বিভাগের দায়িত্ব এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী বেরিয়ে আসে এবং ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হয়—এখন সেদিকেই নজর সবার।