এক দিনের রিমান্ড শেষ হতেই নতুন মোড় নিয়েছে বিমানবন্দরের ঘটনায় করা মামলা। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন—তদন্ত কর্মকর্তার এমন দাবির পর জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে এবার কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেছে পুলিশ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন নাকচ করে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
রোববার ৪ অক্টোবর সেই এক দিনের রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম আদালতের কাছে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আখতারুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে মামলার তদন্ত ও বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই এখনো চলমান থাকায় তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। অন্যদিকে আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক তার জামিনের আবেদন করেন। অর্থাৎ একদিকে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করেছে, অন্যদিকে আসামিপক্ষ চেয়েছে জামিন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয় এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনরত একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও মামলায় রয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টসংলগ্ন ধামালকোট এলাকার নিজ বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইলেও আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এখন রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার এই দাবি মামলাটিতে নতুন গুরুত্ব তৈরি করেছে। তবে আদালতে উত্থাপিত অভিযোগ ও তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্যকে মামলার অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে; চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে বিচারিক প্রক্রিয়ায়। আদালত শুনানি শেষে আখতারুজ্জামানের পরবর্তী অবস্থান নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।