রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন

রাবিতে সাংবাদিক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার নিন্দা শিবিরের

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৫ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১১:১৫ সময় , আপডেট সময় : ৫ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১১:১৫ সময়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক মারধরের শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগ সামনে আসার পর ঘটনাটির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জ্ঞানচর্চার জায়গায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং মুক্ত গণমাধ্যম ও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।


রোববার ৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ঘটনার নিন্দা জানান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। বিবৃতিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ভিডিও ধারণ ও সংবাদ সংগ্রহের সময় ছয় থেকে সাতটি গণমাধ্যমের সাংবাদিক মারধরের শিকার হন। ছাত্রশিবিরের নেতাদের দাবি, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের মারধর করে আহত করার পাশাপাশি তাদের ভয়ভীতি দেখানো এবং গুরুতর হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।


সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের কোনো ঘটনা সম্পর্কে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীরা যদি হামলা বা হুমকির মুখে পড়েন, তাহলে ক্যাম্পাসের ঘটনাগুলো স্বাধীনভাবে গণমাধ্যমে তুলে ধরার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।


ছাত্রশিবিরের বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, এমন ঘটনা ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠানে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক ও পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ কোনোভাবেই স্বাভাবিক ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমন পরিস্থিতি শুধু সাংবাদিকদের নিরাপত্তাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে না, বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করে।


ছাত্রশিবির নেতারা আরও দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে অতীতেও শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাকে তারা সেই ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন। তাদের বক্তব্য, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হলে সহিংসতা, দখলদারিত্ব ও অসহিষ্ণুতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এদিকে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগটিকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ছাত্রশিবির। সংগঠনটির দাবি, ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা সম্পর্কে সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করতে না পারলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়ে।


ঘটনার পর হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে ছাত্রশিবির। হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালনে যারা ব্যর্থ হয়েছেন, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত কোন পর্যায়ে যায়, হামলার অভিযোগের পেছনে কারা জড়িত ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়—এখন সেদিকেই নজর থাকবে। কারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা যে কোনো পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯