রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ক্যাম্পাসে। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা। সোমবার ৫ অক্টোবর সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু ছালেহ শোয়েবের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও একই বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান ধ্রুব। তিনি বলেন, এর আগেও কৃষ্ণ রায়ের ওপর হামলা, মারধর ও হত্যার হুমকির প্রতিবাদে তারা কর্মসূচি পালন করেছিলেন। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। হামলার আগে কয়েকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান করলেও তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আশিকুর রহমান ধ্রুব আরও বলেন, হামলার পর সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা হলের প্রক্টরের কাছে অবস্থান করেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আবারও শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মানববন্ধনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আল মামুন বলেন, জুলাইয়ের পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে, তা তারা আশা করেননি। সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সময় সাংবাদিকরা জনগণের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করেছেন। তাই সাংবাদিকদের নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সাংবাদিকতার পথ বাধাগ্রস্ত হলে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক বকুল বলেন, শিক্ষার্থীরা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে তারা রাতেই তাদের দেখতে গিয়েছিলেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের আয়নার মতো কাজ করে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। উল্লেখ্য, রোববার ৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন।