কঙ্গো নদীর বুকে হঠাৎ মুখোমুখি সংঘর্ষ, এরপরই একটি নৌকা ডুবে গিয়ে পানির নিচে আটকা পড়েন বহু যাত্রী। উদ্ধার তৎপরতার মধ্যেই একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের খবর আসতে থাকে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও বহু যাত্রী। রোববার ৪ অক্টোবর ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় একুয়াটর প্রদেশের এনগোম্বে-লুকোলেলা এলাকায় কঙ্গো নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কিনশাসা থেকে আসা ‘দ্যু সে ক্যাশ’ নামের একটি ধাতব নৌকার সঙ্গে বুসিংগা থেকে আসা ‘এইচবি সুপার ভিক্টোরিয়া’ নামের একটি কাঠের নৌকার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর নৌকাটি ডুবে গেলে বেশিরভাগ যাত্রী পানির নিচে আটকা পড়েন। একুয়াটর প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিসপিন এমপুতু জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় নিহত ৩০ জনের মরদেহ ইতোমধ্যে দাফন করা হয়েছে। তবে এখনো বহু যাত্রীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে রাতের বেলা নৌযান চলাচল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, কিনশাসা থেকে আসা নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই করা ছিল। কঙ্গোতে নৌ দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। বিশেষ করে রাতের বেলা নৌযান চলাচল, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে না মানার কারণে ঝুঁকি বাড়ে। দুর্গম নদীপথে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতিও দুর্ঘটনার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
গত জুলাইয়েও দেশটির কাসাই প্রদেশে ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফেরার সময় একটি কাঠের নৌকা ডুবে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এবার কঙ্গো নদীতে দুই নৌকার সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু এবং বহু যাত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে দেশটির নদীপথের নিরাপত্তাব্যবস্থা।