মাত্র পাঁচ দিন—আর এই অল্প সময়েই দেশের অর্থনীতিতে এলো ৫১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়। চলতি অক্টোবরের প্রথম পাঁচ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় হয়েছে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৫১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এর মধ্যে শুধু ৫ অক্টোবর এক দিনেই এসেছে ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
গত অর্থবছরের একই সময়ে, অর্থাৎ ১ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ দিনে গত বছরের তুলনায় ৯ কোটি ১০ লাখ ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। শুধু অক্টোবরের প্রথম পাঁচ দিন নয়, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ১ জুলাই থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৯১০ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার।
অন্যদিকে, গত অর্থবছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ৮০০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছরওয়ারি হিসাবে চলতি অর্থবছরের এ সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসার এই গতি অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হতে পারে। একই সঙ্গে ডলার সরবরাহের ওপর চাপ কমানো এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও এটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে, অক্টোবরের শুরুতেই প্রবাসী আয়ের এমন শক্তিশালী প্রবাহ দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। এখন বড় প্রশ্ন—এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা কি পুরো মাস এবং অর্থবছরজুড়েই ধরে রাখা সম্ভব হবে?