শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক নেই, অনেক স্কুলের অবকাঠামো জরাজীর্ণ, তার ওপর শিক্ষা খাতে অর্থায়ন কমানোর পরিকল্পনা—এসব অভিযোগে ফ্রান্সে দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর দেশটির বিভিন্ন শহরে প্রায় দুই হাজার স্কুলে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও তাদের জায়গায় বিকল্প শিক্ষক দেওয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাস করার কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি হলো, অনুপস্থিত শিক্ষকদের পরিবর্তে দ্রুত পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ক্লাস চলার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং দুপুরের খাবারের জন্য শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সময় দিতে হবে।
এ ছাড়া পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবনগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করার দাবিও জানিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের আরেকটি বড় দাবি হলো, শিক্ষা খাতে সরকারের বাজেট কমানোর পরিকল্পনা বাতিল করা। আন্দোলন যখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিয়েছে ফরাসি সরকার। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকুরমু শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণ নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ফ্রান্সে ব্যাপক অভিবাসনের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে তিনি মূলত শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয় হিসেবে দেখছেন না বলেও মন্তব্য করেন। তার দাবি, এর সঙ্গে ইসলামের বিষয়ও জড়িত এবং মুসলিমরা ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য অবশ্য শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলোর সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ আন্দোলনকারীরা মূলত শিক্ষক সংকট, স্কুলের অব্যবস্থাপনা, দীর্ঘ ক্লাসের সময়, স্কুল ভবনের সংস্কার এবং শিক্ষা খাতে অর্থায়ন নিয়ে দাবি জানিয়ে আসছেন। এখন ফরাসি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো কতটা দ্রুত সমাধান করা যায়। কারণ দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভ ইতোমধ্যে দেশটির প্রায় দুই হাজার স্কুলে ছড়িয়ে পড়েছে।