সৌদি আরবে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি নতুন কোনো ঘটনা নয়। কয়েক দশক ধরেই বিভিন্ন ভূমিকা ও দায়িত্ব পালনের জন্য পাকিস্তানি সেনাসদস্যরা সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। বুধবার সংবাদমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা উদ্যোগও হঠাৎ করে গড়ে ওঠেনি। এর পেছনে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক কাজ করেছে।
সম্প্রতি রিয়াদে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিন দেশ সম্মিলিত প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে একমত হয়। পাশাপাশি নির্ধারিত সামরিক বাহিনী ও প্রয়োজনীয় সক্ষমতা সৌদি আরবে দ্রুত মোতায়েনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনুমোদিত ব্যবস্থা ও নিজ নিজ আইনি কাঠামো অনুসরণ করেই সামরিক প্রস্তুতি, সমন্বয় এবং সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের আগস্টে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—সদস্য দেশগুলোর যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে বাকি সদস্য দেশগুলোর ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই চুক্তির ফলে তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সামরিক সমন্বয়ের নতুন কাঠামো তৈরি হয়েছে। আর সৌদি আরবে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর দীর্ঘদিনের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে আসায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: জিও নিউজ।