নামাজের সময়কে ঘিরে সড়কে হঠাৎ মিছিল, মুহূর্তেই শেষ করে উধাও নেতা-কর্মীরা! এরপর সেই মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি। প্রতিবাদে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টা বিক্ষোভে নামেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ময়মনসিংহের গৌরীপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর দুপুরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী ডৌহাখলা ইউনিয়নের চরশ্রীরামপুর এলাকায় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। মিছিলে নেতৃত্ব দেন গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বোকাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আল মুক্তাদির শাহীন। কর্মসূচি শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অংশ হিসেবে এবং তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেছেন।
এদিকে মিছিলের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর চরশ্রীরামপুর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ডৌহাখলা ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁদের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়। ঘটনার বিষয়ে ডৌহাখলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জিয়াউল আলম জুরান জানান, জুমার নামাজ চলাকালে সুযোগ বুঝে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সড়কে নেমে দ্রুত মিছিল শেষ করে চলে যান। পরে নামাজ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিছিলের ভিডিও দেখে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান।
ঘটনার বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, চরশ্রীরামপুর এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে। সব মিলিয়ে, গৌরীপুরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও পর্যালোচনা করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।