মাত্র পাঁচ মিনিট আগে জানানো হলো পরীক্ষা বাতিল! অথচ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধারদেনা করে ঢাকায় এসেছিলেন প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী। কারও ভরসা ছিল টিউশনির জমানো টাকা, কারও শেষ সম্বল ধার করা অর্থ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর এখন বড় প্রশ্ন—এই বিপুলসংখ্যক তরুণের আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির দায় নেবে কে? নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে এমন পরিস্থিতিতে সরকারের জবাবদিহি চেয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।
শনিবার ১০ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রায় তিন লাখ বেকার তরুণ এই পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। অনেকেই চাকরি পাওয়ার আশায় কষ্ট করে যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তাঁদের সেই চেষ্টা ও ব্যয় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, পরীক্ষা হওয়ার আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। এরপর প্রায় একশটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করার পর পরীক্ষা শুরুর ঠিক পাঁচ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। তাঁর ভাষায়, এমন সিদ্ধান্ত চাকরিপ্রার্থীদের জন্য চরম হতাশাজনক।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই তিন লাখ তরুণের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে? আবার পরীক্ষা আয়োজন করতে হলে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে। আর সেই অর্থ জনগণের করের টাকা। তাই এ ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা আরও বলেন, দীর্ঘদিন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও চাকরির সুযোগের অপেক্ষায় থাকার পর একটি পরীক্ষা আয়োজন করা হলেও সেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠছে। তাঁর মতে, এতে বেকার তরুণদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। দুই শতাধিক পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ পরীক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি দেশের কর্মসংস্থানের সংকট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনো আমলা, সরকারি কর্মকর্তা কিংবা রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এতে জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের খুঁজে বের করতে হবে। সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য। তাঁর মতে, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অভিযোগ ঠেকাতে না পারলে দায়িত্বশীলদের দায় নিতে হবে। এমনকি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।
তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে—এসব বিষয়ে তদন্তের ফলই চূড়ান্তভাবে পরিস্থিতি পরিষ্কার করবে। আপাতত সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, চাকরির আশায় ঢাকায় আসা হাজারো তরুণের ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে দেওয়া হবে এবং পরবর্তী নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও আস্থা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে।