ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি এবার সত্যিই সংকটের মুখে? একটি আন্দোলনকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে যখন উত্তেজনা বাড়ছে, তখন মোদির পতন হলে ভারতের রাজনীতি ও সমাজে কী পরিবর্তন আসতে পারে, তা নিয়ে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তাঁর মতে, মোদির পতন হলে ভারতে মুসলিমবিদ্বেষী রাজনীতি কিছুটা বাধার মুখে পড়তে পারে, আর আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।
শনিবার ১০ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। সেখানে তিনি ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করেন। মোদির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি লেখেন, তেলাপোকাদের কামড়ে মোদি দিশেহারা এবং তাঁর পক্ষে বেশিদিন টিকে থাকা কঠিন হতে পারে বলে মনে হচ্ছে।
মোদির পতন হলে ভারতের পরিস্থিতি কীভাবে বদলাতে পারে, সে বিষয়েও নিজের ধারণা তুলে ধরেন আসিফ নজরুল। তাঁর বক্তব্য, মোদি ক্ষমতা হারালে ভারতের রাজনীতি ও সমাজে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে মুসলিমবিদ্বেষী রাজনীতি কিছুটা হলেও বাধার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে আসিফ নজরুল আরও মন্তব্য করেন, মোদির পতন হলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্রের সংখ্যা কমতে পারে। তবে এগুলো তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মূল্যায়ন; বাস্তবে ভারতের ক্ষমতার পরিবর্তন হলে দেশটির অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
বাংলাদেশের মানুষের ওপর নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের প্রভাব নিয়েও কথা বলেন আসিফ নজরুল। তিনি দাবি করেন, মোদি ও তাঁর রাজনীতির কারণে বাংলাদেশের অনেক মানুষ বিভিন্নভাবে ভুক্তভোগী হয়েছেন। মোদির রাজনৈতিক পতন ঘটলে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের মধ্যে কিছুটা সান্ত্বনা আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে নিজের অবস্থান জানিয়ে আসিফ নজরুল লেখেন, অন্য অনেকের মতো তিনিও মোদির পতন দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেশটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে ককরোচ জনতা পার্টি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি রাজনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি। ফলে ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধ এবং এই আন্দোলন ভারতের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সব মিলিয়ে, নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আসিফ নজরুলের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে আন্দোলনের প্রভাব, ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক এবং ভারতের ক্ষমতার রাজনীতিতে এর সম্ভাব্য পরিণতি বুঝতে হলে পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের দিকে নজর রাখতে হবে।