মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দেওয়া হয়েছিল প্রাণঘাতী ইনজেকশন। দুটি ইনজেকশন দেওয়ার পর চিকিৎসকেরা ভেবেছিলেন, সব শেষ। কিন্তু কয়েক দিন

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন ক্রিস্টা পাইক

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:২৭ সময় , আপডেট সময় : ১১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:২৭ সময়

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দেওয়া হয়েছিল প্রাণঘাতী ইনজেকশন। দুটি ইনজেকশন দেওয়ার পর চিকিৎসকেরা ভেবেছিলেন, সব শেষ। কিন্তু কয়েক দিন পরই জ্ঞান ফিরে আসে সেই নারীর! মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে তিনি এখন আবার কারাগারে। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের এই ঘটনা দেশটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। কীভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হলো, আর এরপর কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ?


৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইককে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার, ১০ অক্টোবর তাঁর আইনজীবীরা এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রায় তিন দশক ধরে যে কারাগারে বন্দী রয়েছেন পাইক, সেখানেই তাঁকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কারাগারের ভেতরেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাঁকে পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধের দুটি প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইনজেকশন দেওয়ার পরও তাঁর মৃত্যু হয়নি। বরং গুরুতর অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। কয়েক দিন অচেতন থাকার পর চলতি সপ্তাহের শুরুতে তাঁর জ্ঞান ফিরে আসে। এরপর তিনি কথা বলতেও শুরু করেন।


পাইকের আইনজীবীদের বিবৃতি অনুযায়ী, জ্ঞান ফেরার পর তাঁর প্রথম প্রশ্ন ছিল, তিনি কোথায় আছেন। এরপর তিনি জানতে চান, সামনে থাকা ব্যক্তি কে। চিকিৎসক, হাসপাতালের কর্মী এবং আইনজীবীরা তাঁর জ্ঞান ফিরে আসার ঘটনায় বিস্মিত হন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে যাঁরা তাঁকে জরুরি চিকিৎসা দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন পাইক।


প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। পাইকের আইনজীবীদের দাবি, এভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি হিসেবে তিনি সম্ভবত একমাত্র। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ইতিহাসে ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিয়ে আরও যাচাই প্রয়োজন। কেন ব্যর্থ হলো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা? এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি টেনেসি সংশোধন বিভাগ। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শিরায় ওষুধ প্রবেশ করানোর নল সঠিকভাবে স্থাপন করা না হলে ওষুধ রক্তপ্রবাহে না গিয়ে শরীরের টিস্যুতে জমা হতে পারে। পাইকের আইনজীবীরাও আদালতে দাখিল করা নথিতে নল স্থাপনে ত্রুটির অভিযোগ তুলেছেন। তবে এই ব্যাখ্যা এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি।


বিষয়টি নিয়ে আদালতেও শুনানি হয়েছে। বুধবারের শুনানিতে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল উইল আয়ার্স জানান, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত তাঁর জানা নেই। শুনানি শেষে বিচারক ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। ভবিষ্যতে অঙ্গরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হলে এসব প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


ক্রিস্টা পাইক অবশ্য অন্য একটি হত্যাকাণ্ডের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। মামলার তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে তিনি স্লেমারকে হত্যা করেন। একটি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ শিবিরে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল বলে জানা যায়। ওই অপরাধের পর থেকেই প্রায় ৩০ বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন পাইক।


এদিকে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার পর টেনেসি অঙ্গরাজ্যে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গভর্নর বিল লি চলতি বছরে নির্ধারিত অন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখগুলো স্থগিত করে ঘটনাটি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধান পদত্যাগ করেছেন। সব মিলিয়ে, ক্রিস্টা পাইকের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি, চিকিৎসাগত নিরাপত্তা এবং কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। তবে তাঁর মৃত্যুদণ্ড আবার কার্যকর করার চেষ্টা হবে কি না, কিংবা ব্যর্থতার জন্য দায়ী ত্রুটি কী ছিল—সেসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯