রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি

রিয়াদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় নিহত ১২, ফ্লাইট চলাচল বন্ধ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:৩২ সময় , আপডেট সময় : ১১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:৩২ সময়

রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণের পর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম। এই হামলার দায় স্বীকার করে হুতিরা বলছে, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাব দিতেই চালানো হয়েছে এই অভিযান। তাহলে কি নতুন করে বড় সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিরা?


শনিবার, ১০ অক্টোবর, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার বিষয়ে অবগত তিন কর্মকর্তার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানের জবাবে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার বিস্তারিত পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসার অপেক্ষা রয়েছে।


চলতি সপ্তাহে রিয়াদ ছাড়াও সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আভার বিমানবন্দরেও হামলার অভিযোগ উঠেছে হুতিদের বিরুদ্ধে। এসব হামলায় কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাবে ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে সৌদি বাহিনী। অন্যদিকে, হুতিদের দাবি, সৌদি হামলায় বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।


এদিকে, রিয়াদে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাসগুলো নিজ নিজ নাগরিকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁর এই বক্তব্যের পর পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নজর বাড়ছে। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাতের শিকড় বহু বছরের পুরোনো। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে হুতিরা। এরপর তাদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরু হয়। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।


এই হামলার প্রভাব শুধু নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। রিয়াদে আন্তর্জাতিক জ্বালানি কংগ্রেস এবং মাসের শেষ দিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বার্ষিক বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজনের কথা রয়েছে। বিমানবন্দরের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় এসব আন্তর্জাতিক আয়োজন, যাত্রী চলাচল এবং সৌদি আরবের বৈশ্বিক ব্যবসাকেন্দ্র হয়ে ওঠার পরিকল্পনা বাধার মুখে পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে চলমান সংঘাতকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ কত দূর গড়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো কী ভূমিকা নেয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে বিশ্ববাসীর।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯