“এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন?”—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি চলাকালে প্রসিকিউশনের উদ্দেশে এমন মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন সাবেক মন্ত্রী জুনাইদ

‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’: সাক্ষীর উদ্দেশ্যে পলক

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৪:১৯ সময় , আপডেট সময় : ১১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৪:১৯ সময়

“এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন?”—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি চলাকালে প্রসিকিউশনের উদ্দেশে এমন মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন সাবেক মন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সাক্ষীর বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য, পাল্টাপাল্টি যুক্তি এবং আইনজীবীদের বাদানুবাদে একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আদালতকক্ষের পরিবেশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পলককে থামিয়ে কম কথা বলার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এদিন শুনানিতে উঠে আসে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময়কার বিভিন্ন ঘটনা এবং ইন্টারনেট বন্ধের অভিযোগও।


রোববার, ১১ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে বিচারকাজ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে মামলায় দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কর্মকর্তা মাহদী আমিন। জবানবন্দির একপর্যায়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী একটি বিষয়কে ‘ভূতাপেক্ষ’ বলে উল্লেখ করেন। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক প্রসিকিউশনের উদ্দেশে বলেন, “এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন? এখানে আমার বিচার হচ্ছে, ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন। এখানে সবাই বিচারপ্রার্থী। আমরা আপনার কোনো আদেশ বা কথা শুনতে আসিনি।”


এর জবাবে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আসামিপক্ষের কোনো বক্তব্য থাকলে তা তাঁদের আইনজীবীদের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো আসামি এভাবে কথা বলতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ নিয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে ট্রাইব্যুনাল পলককে উদ্দেশ করে বলেন, “রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন।” বিচারক আরও জানান, কথা বলতে হলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। এখানে কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই এবং কেউ যেন কোনো বিষয় ব্যক্তিগতভাবে না নেন, সে কথাও বলেন তিনি।


শুনানির আরেক পর্যায়ে সাক্ষী মাহদী আমিন ২০২৪ সালের ২৮ জুলাইয়ের একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টারের তৎকালীন মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের নাম উল্লেখ করেন। তবে বিষয়টি মামলার মূল অভিযোগের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয় জানিয়ে প্রসিকিউশন ওই অংশ বাদ দেওয়ার আবেদন জানায়। সাক্ষীও এতে সম্মতি দেন। এ সময় কাঠগড়া থেকে পলক সাক্ষীর উদ্দেশে বলে ওঠেন, “ভয় পাইছে, ভয় পাইছে।” পরে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “একটু বসতে পারেন, দয়া করে কথা কম বলেন।”


এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, প্রসিকিউশন প্রশ্ন করে সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছে। এখন সেই বক্তব্য বাদ দিতে হলে সাক্ষীকে স্বার্থবিরোধী ঘোষণা করার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। এ মামলায় পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ লড়ছেন। সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তাঁর পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ দেওয়া আইনজীবী মনজুর আলম শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।


প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে পলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এর জেরে পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা, মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি দেওয়া এবং হত্যায় সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর উত্তরায় আরও ৩৪ জনকে হত্যায় সহায়তার অভিযোগও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মামলাটির বিচারকাজ এখনো চলমান রয়েছে। প্রসিকিউশনের এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন ট্রাইব্যুনাল।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯