একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই আবার কেঁপে উঠল মধ্য আমেরিকার দেশ পানামা। কয়েক দিনের ব্যবধানে একের

৭.৭ মাত্রার রেশ কাটতে না কাটতেই পানামায় ফের ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৭ সময় , আপডেট সময় : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৭ সময়

একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই আবার কেঁপে উঠল মধ্য আমেরিকার দেশ পানামা। কয়েক দিনের ব্যবধানে একের পর এক ভূকম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন অঞ্চলে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত ঘরবাড়ি, আহত হয়েছেন বহু মানুষ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বড় ভূমিকম্পের পরও থামছে না মাটির নিচের কম্পন। ফলে নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


স্থানীয় সময় সোমবার, ১২ অক্টোবর, পানামায় রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। তবে এই কম্পনে নতুন করে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। এর আগে গত শুক্রবার পানামায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ভূমিকম্পে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় বিভিন্ন প্রদেশে শত শত অবকাঠামো ও আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে সরকার।


ভূতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের বড় ভূমিকম্পের পর থেকে ওই অঞ্চলে তিন শতাধিক মৃদু ও মাঝারি মাত্রার পরবর্তী কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর এ ধরনের কম্পনকে আফটারশক বলা হয়। এসব কম্পনের কারণে আগে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও স্থাপনাগুলো আরও দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


পানামার জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই দুর্যোগে অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৯০০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকাগুলোতে এখনো অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ চলছে। এসব এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে উদ্ধারকাজ শেষ হলে আহত মানুষের সংখ্যা এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।


ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে লস সান্তোস, কোকলে, ভেরাগুয়াস ও এরেরা প্রদেশ। এসব অঞ্চলে জরুরি ত্রাণ বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরপর ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ভূমিকম্পের পর পরবর্তী কম্পন ঘটতে পারে। তবে ঠিক কখন, কোথায় বা কত মাত্রার ভূমিকম্প হবে, তা নির্ভুলভাবে আগাম বলা সম্ভব নয়।


সব মিলিয়ে, পানামায় এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা এবং দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ শেষ করা। নতুন কম্পনের আশঙ্কার মধ্যে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে নজর রাখছেন দেশটির জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯