সৌদি আরবে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। আর এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়ে সামরিক সহায়তা পাঠিয়েছে যুক্তরাজ্য। আকাশপথে হামলা মোকাবিলা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় এবার কী ভূমিকা রাখবে ব্রিটিশ বাহিনী, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।
সৌদি আরবে হুতিদের হামলার হুমকি মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ‘ভয়েজার’ নামের একটি সামরিক বিমান পাঠিয়েছে যুক্তরাজ্য। সোমবার, ১২ অক্টোবর, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সৌদি আরবে মোতায়েন করা বিমানটি ইতিমধ্যে ১৪টি সামরিক অভিযান সম্পন্ন করেছে। বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর আগে রোববার হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করে, আগের ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবের দুটি বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি স্থাপনা লক্ষ্য করে চারটি অভিযান চালিয়েছে তারা। এসব অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি গোষ্ঠীটির।
হুতিদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে সৌদি আরবের ধারাবাহিক বিমান হামলার জবাব দিতেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে। সানআ, তাইজ, মারিব, আল-জাওফ, হাজ্জা, আল-হুদায়দা ও সা’দা অঞ্চলে সৌদি বাহিনী ১২৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরুর পর থেকে সৌদি বাহিনীর মোট বিমান হামলার সংখ্যা দুই হাজার ৫৮টিতে পৌঁছেছে বলেও জানিয়েছে হুতিরা।
তবে এসব হামলার সংখ্যা ও অভিযানের বিষয়ে হুতিদের দেওয়া তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে তাদের দাবিগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এদিকে সৌদি আরবে যুক্তরাজ্যের সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি ওঠায় বেসামরিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান সামরিক উড়োজাহাজকে দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি নিতে সহায়তা করে। আর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মতো হুমকি শনাক্ত এবং প্রতিহত করার কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে যুক্তরাজ্যের পাঠানো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নির্দিষ্ট ধরন ও কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য এখানে প্রকাশ করা হয়নি।
সব মিলিয়ে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। এখন নজর থাকবে, হামলা-পাল্টা হামলার পরিস্থিতি আরও বাড়ে কি না এবং আন্তর্জাতিক সামরিক সহায়তা সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কতটা প্রভাব ফেলে।