মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে কাজ হারাচ্ছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, আবার কেউ কর্মস্থলে ফিরতে পারা

দেশে ফিরে আসা কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনে সরকার কাজ করছে: নুর

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:১২ সময় , আপডেট সময় : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:১২ সময়

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে কাজ হারাচ্ছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, আবার কেউ কর্মস্থলে ফিরতে পারা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকার খুঁজছে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও নতুন শ্রমবাজার। পাশাপাশি দেশে ফিরে আসা কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে যুদ্ধ শেষ হলে কি আবারও খুলবে কর্মসংস্থানের নতুন দরজা? আর ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহত প্রবাসীদের পরিবার কতটা সহায়তা পাচ্ছে?


প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার একাধিক দিক থেকে কাজ করছে। বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার পাশাপাশি দেশে ফিরে আসা কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং পুনর্বাসনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মেলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।


তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশিদের চিকিৎসা এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে। এ সময় বাংলাদেশ দূতাবাসও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। রিয়াদে হামলার পর রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নিয়েছেন।


এদিকে যুদ্ধের কারণে যেসব প্রবাসী কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাদের নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশা প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, অতীতেও আলোচনার মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যার সমাধান হয়েছে। তবে সৌদি আরব নিজেই যখন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উপযুক্ত সময় নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো এবং তাঁদের আবার কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ তৈরি করার বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।


যুদ্ধের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেকের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার চালানো, ঋণ পরিশোধ এবং দেশে থাকা স্বজনদের খরচ বহন করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং দেশে ফিরে আসা কর্মীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


তবে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শেষ হলে পুনর্গঠন কার্যক্রমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনা পুনর্নির্মাণের কাজে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রস্তুত রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।


যুদ্ধে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের সহায়তার বিষয়েও কথা বলেছেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। দেশটি নিজেরাই সংকটের মধ্যে রয়েছে। তাই শুধু সহায়তা চাওয়াই নয়, সংকটের সময় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোও বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্ব।


প্রতিমন্ত্রী জানান, যুদ্ধে নিহতদের পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় শ্রমচুক্তির আওতায় কিছু কোম্পানি পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে। তবে ছোট প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ তুলনামূলক কম হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা হিসেবে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।


সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীদের কর্মসংস্থান, আয় এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো, দেশে ফিরে আসা মানুষদের নতুনভাবে কর্মজীবনে যুক্ত করা এবং বিদেশে কাজের বিকল্প সুযোগ তৈরি করা। একই সঙ্গে সংঘাত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রবাসীদের পুরোনো কর্মস্থলে ফেরার পথ কতটা সহজ হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯