ইরানের সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে গিয়ে কি এবার বড় কৌশলগত সমস্যায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র? ইরানের সঙ্গে আলোচনা করতে কার

ইরানে সম্ভবত অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি: ট্রাম্প

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৩:১৬ সময় , আপডেট সময় : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৩:১৬ সময়

ইরানের সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে গিয়ে কি এবার বড় কৌশলগত সমস্যায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র? ইরানের সঙ্গে আলোচনা করতে কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, তা খুঁজে পেতেই হিমশিম খাচ্ছে ওয়াশিংটন—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: ইরানের নেতৃত্বকে দুর্বল করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কি আলোচনার পথটাও জটিল করে তুলেছে?


মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ওহাইওর ইয়ংসটাউনে এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো অতিরিক্ত দূর পর্যন্ত চলে গেছে। তাঁর ভাষায়, এখন কার সঙ্গে কথা বলতে হবে, সেটিই বুঝে উঠতে পারছে না ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে দরকষাকষি বা আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এখন কেউই ইরানের প্রেসিডেন্ট হতে চাইছেন না। তবে তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির পার্থক্য রয়েছে। মাসুদ পেজেশকিয়ান ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে ট্রাম্পের মন্তব্যকে ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।


নিজের বক্তব্যে ট্রাম্প স্বীকার করেন, ইরানের নেতাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে। এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার কৌশল কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে। জনসভায় ট্রাম্প তাঁর আগের দাবিও পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি বলেন, ইরান তাদের বিমানবাহিনী এবং ১৫৯টি জাহাজ হারিয়েছে, যেগুলো এখন সমুদ্রের তলদেশে রয়েছে। তবে এসব দাবির পূর্ণ সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সামরিক সংঘাতের সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির পার্থক্য থাকতে পারে।


এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার খবরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ১ অক্টোবর থেকে বাণিজ্যিক জলযানগুলোতে অন্তত ১৯টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব হামলা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।


উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পরিবহন, পণ্য সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক ব্যয়েও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি সমুদ্রপথের নিরাপত্তাও এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতির সামনে একটি জটিল বাস্তবতা তুলে ধরেছে। সামরিক চাপ দিয়ে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার চেষ্টা চললেও আলোচনার জন্য কার্যকর যোগাযোগের পথ খোলা রাখা জরুরি। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগ তৈরি হয় কি না, নাকি নেতৃত্ব ও সমুদ্রপথ ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯