জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে শিক্ষার্থী সৈকত হালদারকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে

মহানবী (সা.)–কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, জাবিতে স্থায়ী বহিষ্কারসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৭ সময় , আপডেট সময় : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৭ সময়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে শিক্ষার্থী সৈকত হালদারকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আরও তিনটি বিষয়ে পদক্ষেপ চেয়েছেন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়ারও দাবি উঠেছে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। সমাবেশে অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।


এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে সৈকত হালদারকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের আবাসিক ছাত্র। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে চার সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি প্রশাসনিক আদেশে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী সাময়িক বহিষ্কারের পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাহতাব-উজ-জাহিদ, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক কে এম জাহিদুল ইসলাম এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের ওয়ার্ডেন মো. আলমগীর কবির।


বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। তাঁদের প্রথম দাবি, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সৈকত হালদারের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, একই বিভাগের শিক্ষার্থী বন্ধন কুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুনরায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, হিম উৎসব-২০২৬-এ ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগের নিষ্পত্তি করে দায়ীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। চতুর্থত, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ধর্মীয় অবমাননার ঘটনায় স্থায়ী বহিষ্কারের বিধান রেখে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম লিখন অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং দায় প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশাসনিক পদক্ষেপের সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামসুল আলম শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি দাবিগুলোকে যৌক্তিক বলেও উল্লেখ করেন।


তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এক বিবৃতিতে ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যের সত্যতা যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের দাবি যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ, হুমকি কিংবা সহিংসতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯