শুরুতে পিছিয়ে পড়েও গালাতাসারাইয়ের মাঠে গোলবৃষ্টি করে ৪-১ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। হান্সি ফ্লিকের দলের এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের দাপট আরও স্পষ্ট হয়েছে। ম্যাচে প্রথমে গোল হজম করলেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে চারবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে কাতালানরা। বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের প্রথম গোল করেছেন অ্যান্থনি গর্ডন। একই সঙ্গে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমের শুরুতে টানা ১০ ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়েছে দলটি।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে গালাতাসারাইয়ের মাঠে মুখোমুখি হয় দুই দল। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে আক্রমণ চালাতে থাকে সফরকারী বার্সেলোনা। পুরো ম্যাচে ৭১ শতাংশ বলের দখল ছিল তাদের। গোলের জন্য নেওয়া ২২টি শটের মধ্যে ১১টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে গালাতাসারাই পাঁচটি শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। তবে ম্যাচের ২৮ মিনিটে অপ্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। রাফায়েল লেয়াওয়ের বাড়ানো বল পেয়ে অ্যালেক্সি বাত্রাকভের নেওয়া শট বার্সেলোনার জোয়াও ক্যান্সেলোর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। এতে পিছিয়ে পড়ে চাপে পড়ে হান্সি ফ্লিকের দল।
গোল হজমের পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে বার্সেলোনা। একের পর এক আক্রমণ চালালেও প্রথমদিকে গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। অবশেষে প্রথমার্ধের ৪৩ মিনিটে সমতাসূচক গোল করেন জোয়াও ক্যান্সেলো। দানি ওলমোর শট অ্যান্থনি গর্ডন ছেড়ে দিলে পেছন থেকে এগিয়ে এসে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান পর্তুগিজ এই ডিফেন্ডার। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগে ম্যাচে সমতা ফেরায় বার্সেলোনা।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরে যেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে কাতালানরা। ৫০ মিনিটে কর্নার থেকে ফিরে আসা বল লামিনে ইয়ামাল বক্সে পাঠালে হেডের সাহায্যে গোল করেন ফেরমিন লোপেজ। এতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। এর মাত্র তিন মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়ান অ্যান্থনি গর্ডন। পেদ্রির পাস পেয়ে ইয়ামাল বলটি গোললাইন থেকে মাঠের ভেতরে রেখে গর্ডনের দিকে বাড়িয়ে দেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান গর্ডন। চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার জার্সিতে এটিই তাঁর প্রথম গোল।
এরপর ম্যাচের ৬৫ মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন জার্মান ফরোয়ার্ড কারিম আদেয়েমি। গ্যাব্রিয়েল জেসুসের গায়ে লেগে বল তাঁর সামনে এলে দারুণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে পাঠান তিনি। ফলে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। শেষ দিকে আরও গোল করার সুযোগ পেয়েছিল কাতালানরা। ইয়ামালের ক্রস থেকে আদেয়েমির নেওয়া ভলি গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন গালাতাসারাইয়ের রোলান্ড সালাই। পরে ইয়ামালের পাস পেয়ে গ্যাব্রিয়েল জেসুসও গোলের চেষ্টা করেন, কিন্তু তাঁর শট আটকে দেন প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৪-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।
এই জয়ের ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। দুই ম্যাচে তাদের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়টি। এর আগে প্রথম ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়েছিল দলটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমের শুরুতে টানা ১০ ম্যাচ জয়ের সাফল্যও যোগ হয়েছে তাদের অর্জনের খাতায়।