রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ঘটনাস্থলে দুই পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও তাঁদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনায় জড়িত যুবককে খুঁজছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কে বাংলাদেশ আই হাসপাতালের বিপরীত পাশের ফুটপাতে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুই মিনিটের বেশি সময়ের ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক ওই ব্যক্তিকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারছেন এবং কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন। আশপাশের কয়েকজনকে ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করতে ও মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তির মুঠোফোন নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাঁকে আবারও মারধর করা হয়। অথচ কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা দুই পুলিশ সদস্যকে নীরব দর্শকের মতো দেখা যায়।
২৩ বছর বয়সী ওই তরুণীর অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেছিলেন। ঘটনার পর তাঁকে ধরে পুলিশ সদস্যদের কাছে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁরা দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহ দেখান বলে অভিযোগ করেন তরুণী। পরে তিনি তাঁর মামাকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডাকেন। মামা সেখানে পৌঁছে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক মামুন ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেন।
আটকের পর শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ রানাকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. ইমরান আহমেদ তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ স্বীকার করায় তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের ভূমিকা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ভিডিওটি লাখ লাখ বার দেখা হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতার উত্তেজিত ও মারমুখী আচরণের কারণে দুই পুলিশ সদস্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রক্ষা করতে সাহস পাননি বলে তাঁরা জানিয়েছেন। তবে কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারধর করার সুযোগ নেই। মারধরে জড়িত যুবককে খুঁজছে পুলিশ। দায়িত্ব পালনে নিষ্ক্রিয় থাকা দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবে।
ওসি আরও জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পরিবারের বরাতে জানা গেছে, চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ার সময় থেকেই তিনি মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন। তবে এ ধরনের তথ্যের সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগের বিচার, পুলিশের দায়িত্ব এবং জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার বিষয়—তিনটি ক্ষেত্রেই ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।