ইউক্রেনের স্টারলিংক ইন্টারনেট নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে আলোচনা। দেশটির সামরিক বাহিনীর যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই সেবা বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের জন্য স্টারলিংক সেবা বন্ধের কোনো নির্দেশ তিনি দেননি। এমনকি এই সিদ্ধান্ত ইলন মাস্ক নিয়েছেন বলেও তিনি মনে করেন না। তাঁর দাবি, তাঁর জানামতে স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিকভাবেই চালু রয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তিনি জানান, স্টারলিংক সেবা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। কিন্তু ইন্টারনেটের গতি সীমিত করে দেওয়ায় ইউক্রেনের সামরিক ও মানবিক কার্যক্রমে এর ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।
যুদ্ধের ময়দানে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের জন্য স্টারলিংক ইউক্রেনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই সেবার গতি কমে গেলে সেনাদের মধ্যে যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন জরুরি কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তার কাজেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেলেনস্কি আরও জানান, স্টারলিংক সেবা পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ওয়াশিংটন আশ্বাস দিয়েছে। তবে সেবাটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক গতিতে ফিরেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তিনি দেননি। সব মিলিয়ে, স্টারলিংক বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, পরিষেবার গতি কমে যাওয়ায় ইউক্রেনের সামরিক ও মানবিক কাজে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের যোগাযোগব্যবস্থায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ভূমিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।