মাত্র পাঁচ দিন দায়িত্ব পালন করেই হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে যেতে হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের

মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বরখাস্ত ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি জাকারিয়া

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৬ সময় , আপডেট সময় : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৬ সময়

মাত্র পাঁচ দিন দায়িত্ব পালন করেই হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে যেতে হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে। যে পদে বসার পর তাকে প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেই পদেই কেন এত দ্রুত ছন্দপতন? একটি সংবাদ সম্মেলন, আইনি যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক এবং সংবাদমাধ্যমের একের পর এক কঠিন প্রশ্ন—সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব বদলের মুখে পড়লেন তিনি।


শুক্রবার বিকেলে জর্জিয়ায় নির্বাচনী জনসভায় যাওয়ার পথে হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি জানান, কেটি জাকারিয়াকে নিজের নতুন দায়িত্বের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, প্রেস সেক্রেটারির পদে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চাপ নেওয়ার প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে তিনি নিজেও প্রশ্ন তুলেছেন।


ঘটনার সঙ্গে পরিচিত তিনজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, জাকারিয়াকে প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্য কোনো ভূমিকায় তিনি প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চুংও জানিয়েছেন, জাকারিয়া নতুন দায়িত্বে যাবেন, যার বিস্তারিত পরে ঘোষণা করা হবে। কিন্তু মাত্র কয়েক দিন আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। গত সপ্তাহের শুক্রবার ট্রাম্প হঠাৎ করেই ফক্স নিউজের ভাষ্যকার কেটি জাকারিয়াকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের প্রস্তাব দেন। সোমবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অথচ মঙ্গলবার তাঁর প্রথম সংবাদ সম্মেলনই হয়ে ওঠে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর্ব মাত্র সাড়ে পাঁচ মিনিটের মধ্যে শেষ করেন জাকারিয়া। এরপর তাঁর আইনি যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ট্রাম্প তাঁকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও পরে প্রকাশ্যে আসে, তিনি আইনজীবীদের পেশাগত যোগ্যতা নির্ধারণের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি। সাংবাদিকেরা যখন জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্রের কোন অঙ্গরাজ্যে তিনি ওই পরীক্ষায় পাস করেছেন, তখন জাকারিয়ার উত্তর নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তিনি দুবার চীনে চলে যাওয়ার কথা বলেন। পরে দাবি করেন, প্রশ্নটি তিনি ভুল শুনেছিলেন। তবে বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সমালোচনা আরও বাড়তে থাকে।


বিতর্ক থামেনি সেখানেই। বৃহস্পতিবার রাতে ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সাক্ষাৎকারে জাকারিয়াকে তাঁর আইনি যোগ্যতা নিয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। পরদিন সকালে আরেকটি অনুষ্ঠানে তাঁকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়, আইনজীবীদের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি তিনি প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছিলেন কি না। জাকারিয়া জবাব দেন, তাঁকে এ ধরনের প্রশ্ন করা হয়নি। এরপর শুক্রবার তাঁর দায়িত্ব পরিবর্তনের খবর সামনে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জাকারিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করাকে সম্মানের বিষয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি প্রেসিডেন্টের প্রশংসাও করেন।


এদিকে, জাকারিয়ার পদচ্যুতির ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে একাধিক বিষয়ে অস্থিরতা ও মতবিরোধের খবর সামনে এসেছে। একই সপ্তাহে গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েলকে বরখাস্ত করার ঘোষণা, প্রশাসনের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ এবং বিভিন্ন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক অ্যান্থনি স্কারামুচি দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় বরখাস্ত হয়েছিলেন। এবার মাত্র পাঁচ দিনে কেটি জাকারিয়ার দায়িত্ব পরিবর্তনের ঘটনা সেই আলোচনাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।


সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯