সরকারি চাকরির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে আট থেকে দশ লাখ টাকা নেওয়ার

পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকায় চুক্তি!

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪১ সময় , আপডেট সময় : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪১ সময়

সরকারি চাকরির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে আট থেকে দশ লাখ টাকা নেওয়ার চুক্তি করেছিল একটি চক্র। আর এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাতজন, যাদের মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারী। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রথম কোথা থেকে ফাঁস হলো? সেই রহস্য এখনো উদ্‌ঘাটন করতে পারেনি তদন্তকারীরা। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিষয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ান। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংস্থাটির সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।


গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তিনজন, পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মচারী রয়েছেন। বাকি দুজন চাকরিপ্রত্যাশী। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর, অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যপ্রবেশকর্মী মো. রুবেল ইসলাম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম এবং চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন। তাদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প, ব্যাংকের চেক, সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র ও মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী।


গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্যপদের বিপরীতে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এই পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন তিন লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এর প্রায় এক ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ান। এর ধারাবাহিকতায় ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়েছিল।


তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, মুঠোফোনের কথোপকথন ও হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা বিশ্লেষণ করে প্রশ্নপত্র আদান-প্রদানের একটি ধারাবাহিকতা পাওয়া গেছে। তদন্তে বলা হয়েছে, ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাঁকে প্রশ্নপত্রের স্পষ্ট ছবি পাঠান। এরপর নূর মোহাম্মদ প্রশ্নের উত্তর প্রস্তুত করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলের কাছে পাঠান। পরে চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন ও উত্তর পৌঁছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।


তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, এ কাজে আসাদুল, রুবেল, মফিজুল ও সুজনও যুক্ত ছিলেন। চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে যোগাযোগ করত বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী। তবে প্রশ্নপত্রের মূল উৎস এখনো অজানা। নূর মোহাম্মদ ও জাহাঙ্গীর দাবি করেছেন, তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পেয়েছিলেন। তাঁদের উল্লেখ করা বিভিন্ন গোষ্ঠী ও পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্নপত্রটি প্রথম কে সরবরাহ করেছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে, তাই এ ঘটনায় আর কারা জড়িত এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের পেছনে মূল পরিকল্পনাকারী কে, তা জানতে আরও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে আবারও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। লাখ লাখ চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকা এমন একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কীভাবে পরীক্ষার আগেই একটি চক্রের হাতে পৌঁছাল, সেটিই এখন তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯