বর্তমান সরকার কি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পথেই হাঁটছে? বিচার বিভাগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকারে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, এভাবে চলতে থাকলে বর্তমান সরকারের পরিণতিও শেখ হাসিনার সরকারের মতো হতে পারে। এমনকি দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি বর্ণনা করেছেন এক লুটেরার হাত থেকে অন্য লুটেরার হাতে ক্ষমতা যাওয়ার সঙ্গে তুলনা করে।
শুক্রবার সকালে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে টঙ্গীর শহীদ আবদুল মালেক মিলনায়তনে আয়োজিত ২০২৬ সালের রুকন সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, দেশে এখনো মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গণভোটের ফলাফল অস্বীকার করা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সমাজে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায় বেড়েছে। নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক দল বলেছিল, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে সমস্যার সমাধান তো হয়ইনি, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, জামায়াত ও তরুণ সমাজ শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে বৈষম্যের নতুন মাত্রা যুক্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শিক্ষাঙ্গণে দলীয়করণ, লুটপাট এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভাগ বসানোর অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এক লুটেরার হাত থেকে অন্য লুটেরার হাতে ক্ষমতা গেছে। বিচার ও শিক্ষা বিভাগে অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগও তুলে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দেখানো পথ অনুসরণ করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষমতাসীন বিএনপির পছন্দের লোকদের বসানো হচ্ছে। এর ফলে দেশে কার্যত দুই ধরনের সরকারব্যবস্থা চলছে—একটি জনগণের ভোটের ভিত্তিতে, অন্যটি ক্ষমতাসীন দলের পছন্দ অনুযায়ী।
শফিকুর রহমানের অভিযোগ, পছন্দের ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনে লুটপাটের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের নেতাকর্মীদের পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। নির্বাচনে বিজয় অর্জনের লক্ষ্যে সংগঠিতভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদও দেন দলটির আমির।
সব মিলিয়ে, সরকারের বিচার, শিক্ষা ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থা নিয়ে শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে। তাঁর অভিযোগের জবাবে সরকার কী অবস্থান নেয় এবং আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।