সাত বছরের প্রেম, এরপর বিয়ে—সব মিলিয়ে সুন্দর একটি দাম্পত্য জীবনের গল্প ছিল অভিনেত্রী সাবিলা নূর ও নেহাল সুনন্দ তাহেরের। কিন্তু সেই সম্পর্ক ঘিরেই এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিচ্ছেদের গুঞ্জন। এরই মধ্যে নতুন এক সম্পর্কের অভিযোগ সামনে আসায় বিনোদন অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। তবে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়, আর সংশ্লিষ্ট তারকাদের পক্ষ থেকেও আসেনি আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য।
২০১৯ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন সাবিলা নূর ও নেহাল সুনন্দ তাহের। এর আগে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। সম্প্রতি তাঁদের দাম্পত্য জীবনে দূরত্ব তৈরি হয়েছে এবং তাঁরা আলাদা থাকছেন—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিচ্ছেদের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এদিকে কিছু প্রতিবেদনে সাবিলা নূরের সঙ্গে ‘রকস্টার’ সিনেমার দৃশ্যধারণ পরিচালক আবদুল মামুনের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, সিনেমাটির কাজ করতে গিয়ে তাঁদের পরিচয় হয় এবং পরে সেই সম্পর্ক ব্যক্তিগত পর্যায়ে গড়ায়। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই অভিযোগগুলোকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এই বিতর্কে সামনে এসেছে তিশা নামের এক তরুণীর বক্তব্যও। তিনি দাবি করেছেন, আবদুল মামুনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাঁদের বিয়ের প্রস্তুতিও চলছিল। তিশার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘রকস্টার’ সিনেমার কাজ শেষ হওয়ার পর ১৫ মে তাঁদের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু বিয়ের মাত্র দশ দিন আগে মামুন তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
তিশা আরও দাবি করেন, সাবিলা নূর তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে জানতেন। তাঁর অভিযোগ, মামুনের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের জেরেই তাঁদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে যায়। তবে তিশার এসব বক্তব্যের বিষয়ে আবদুল মামুন বা সাবিলা নূরের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এর আগে সাবিলা নূরের দাম্পত্য জীবন নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সহশিল্পী শাকিব খানের নামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জড়ানো হয়েছিল। তবে ওই দাবি ভিত্তিহীন গুঞ্জন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে যাচাইহীন আলোচনা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নানা বক্তব্যের মধ্যে কোনটি সত্য, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে পুরো ঘটনা নিয়ে ‘রকস্টার’ সিনেমার পরিচালক আজমান রুশোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে চাননি। পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে সাবিলা নূরের দাম্পত্য জীবন, আবদুল মামুনের সঙ্গে কথিত সম্পর্ক এবং তিশার বিয়ের অভিযোগ—সবকিছু ঘিরেই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না থাকায় বিষয়টি মূলত অভিযোগ ও গুঞ্জনের পর্যায়েই রয়েছে। তাই নিশ্চিত তথ্য সামনে না আসা পর্যন্ত কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ছড়ানো দাবিকে সত্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।