ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনটি ঘিরে বিএনপির নারী নেত্রীদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর প্রতিযোগিতা। একটি আসন, অথচ মনোনয়ন চাইছেন ৭০ জন! সাবেক সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেত্রী, জেলা পর্যায়ের সংগঠক—সবাই চান দলের মনোনয়ন। এখন বড় প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জুটছে এই আসন?
শুক্রবার ১৬ অক্টোবর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন ৭০ জন নারী নেত্রী। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মহিলা দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীরা। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অনেকেই বলছেন, অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা এবং নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দল তাদের মূল্যায়ন করবে। কেউ সংসদে গিয়ে নিজের এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান, আবার কেউ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ খুঁজছেন। তবে আসনটি বিএনপির জন্য নির্ধারিত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত একজনকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে।
আলোচনায় থাকা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির সহমানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহানা আক্তার সানু ও আয়শা সিদ্দিকা মনি। এ ছাড়া মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর বেগম, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় মানব উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ফারহানা আতিকা এবং বরিশাল মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানমও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তালিকায় রয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদা আফরোজ হক, ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি রুনা লায়লা এবং দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনাহেনা হীরা। প্রবীণ নারী নেত্রী জেলী চৌধুরী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা ও সিমকী ইমাম খানও মনোনয়ন চাইছেন। পাশাপাশি ছাত্রদল ও মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীরাও এই প্রতিযোগিতায় রয়েছেন।
মনোনয়নপ্রত্যাশী রুনা লায়লা জানিয়েছেন, আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে গিয়ে তার বিরুদ্ধে ২২টি মামলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ঢাকা মহানগর উত্তর এলাকার সঙ্গে নিজের পরিচিতির কথা উল্লেখ করে রুনা লায়লা আশা করছেন, এবার দল তাকে মূল্যায়ন করবে। অন্যদিকে হাসনাহেনা হীরা জানিয়েছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখার পর এবার তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান। তার ভাষ্য, এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্য থেকেই তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার মনোনয়ন চাইছেন। সংসদে সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ পেলে উন্নয়নকাজে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।
এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চেয়েও অনেকে তা পাননি। কেউ আবার সরাসরি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর তাদের সামনে নতুন করে সুযোগ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরের রাড্ডা মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর ১ অক্টোবর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। তার পদত্যাগের দিনই সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, এই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৬ অক্টোবর, বাছাই হবে ২৭ অক্টোবর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১ নভেম্বর। এই আসনটি বিএনপির জন্য বরাদ্দ হওয়ায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন। ফলে ৭০ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর ভিড়ে শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেয় বিএনপি, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, কে হচ্ছেন শূন্য হওয়া এই সংরক্ষিত নারী আসনের পরবর্তী সংসদ সদস্য।