সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ দুই বিমানবন্দর রিয়াদ ও দাম্মামে নিরাপত্তাজনিত কারণে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছেন বাংলাদেশি যাত্রীরা। মাত্র সাত দিনে বাতিল হয়েছে ১১৪টি ফ্লাইট। আর এসব ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন ১৭ হাজার ৭০১ জন। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার বিকেলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দর বন্ধ থাকার কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত একাধিক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৮টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১২টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট। অর্থাৎ, এসব উড়োজাহাজ সংস্থার মোট ৫০টি সরাসরি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিটের মাধ্যমে যাতায়াতকারী যাত্রীদেরও পড়তে হচ্ছে অনিশ্চয়তার মুখে। বাতিল হওয়া ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্ডিগো এয়ারের ২২টি, সালাম এয়ারের সাতটি, এমিরেটস এয়ারের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ছয়টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার পাঁচটি ফ্লাইট। ফ্লাইট বাতিলের এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন সৌদি আরবে যাতায়াতের পরিকল্পনা করা যাত্রীরা। বিশেষ করে যাঁদের কর্মস্থলে যোগ দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণ কিংবা দেশে ফেরার কথা ছিল, তাঁদের ভ্রমণসূচি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে বাতিল হওয়া সব যাত্রীর পরবর্তী যাত্রার সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিল অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সামনের দিনগুলোতেও যাত্রীদের ভোগান্তি চলার আশঙ্কা রয়েছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সৌদি আরবের এই দুই বিমানবন্দরে কখন স্বাভাবিকভাবে ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে এবং বাতিল হওয়া যাত্রীরা কবে তাঁদের নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। যাঁদের সৌদি আরবগামী বা সৌদি আরব থেকে ফেরার টিকিট রয়েছে, তাঁদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ ফ্লাইটের অবস্থা জেনে নেওয়া জরুরি।