যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল এখন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে বসতবাড়ি ও

তীব্র দাবানলে জ্বলছে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া, সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৫ সময় , আপডেট সময় : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৫ সময়

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল এখন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে বসতবাড়ি ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায়। তীব্র শুষ্ক বাতাসের তাণ্ডবে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে অন্তত ছয়টি বাড়িঘর। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠার আশঙ্কায় প্রায় ১৬ হাজার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু কেন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই আগুন? আর সামনে কি আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে?


দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির উপকূলীয় শহর সান ক্লেমেন্তে থেকে গত শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, শুরু হয় ‘নর্তে ফায়ার’ নামে পরিচিত এই দাবানল। পরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী সান হুয়ান ক্যাপিস্ত্রানো এলাকায়। দাবানলের বিস্তার বাড়তে থাকায় আশপাশের বসতিগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নিনির্বাপণ সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ আগুনে প্রায় ২৩১ হেক্টর পাহাড়ি বনভূমি ও আশপাশের এলাকা পুড়ে গেছে। আগুনের ঝুঁকি বিবেচনায় প্রায় ছয় হাজার বাড়িঘরের অন্তত ১৬ হাজার বাসিন্দাকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য সান ক্লেমেন্তে ও সান হুয়ান ক্যাপিস্ত্রানো—দুই শহরেই জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।


আবহাওয়াবিদদের মতে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, বাতাসে আর্দ্রতার তীব্র ঘাটতি এবং ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে বয়ে চলা শুষ্ক ‘সান্তা আনা’ বাতাস আগুনকে দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই ধরনের প্রবল বাতাসের কারণে আগুনের দিক হঠাৎ বদলে যেতে পারে। ফলে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার রাত পর্যন্ত সেখানে প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। দাবানল আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কয়েক হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। দমকল বিভাগের আশঙ্কা, ঝোড়ো বাতাসে বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হলে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।


আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আকাশ ও স্থল—দুই দিক থেকেই চলছে অভিযান। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আগুনের ওপর পানি ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি কয়েক শ অগ্নিনির্বাপক কর্মী সরাসরি ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তবে তীব্র বাতাস ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার অন্য এলাকাতেও একাধিক দাবানল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মালিবু-সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ‘ব্রাইসন ফায়ার’-এ প্রায় ৫৯ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। আগুনের মাত্র ১৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।


অন্যদিকে সান দিয়েগো কাউন্টির ‘হেন্ডারসন ফায়ার’-এ পুড়েছে প্রায় ৮৪২ হেক্টর এলাকা। এই আগুনের প্রায় ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। দাবানলটির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ক্যাম্প পেন্ডলটন এলাকায়ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের একাধিক মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, ক্যালিফোর্নিয়ায় একসঙ্গে একাধিক দাবানল মোকাবিলা করতে গিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা। তীব্র বাতাস, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং শুষ্ক পরিবেশ আগুনের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য—আগুনের বিস্তার থামানো, ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯