রাজশাহীতে মুফতি আমির হামজার তাফসির মাহফিল ঘিরে চলছিল ব্যাপক প্রস্তুতি। বড় প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছিল, প্রচার-প্রচারণাও চলেছিল আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু নির্ধারিত দিনের আগমুহূর্তে এমন কী ঘটল, যার কারণে শেষ পর্যন্ত গুটিয়ে নিতে হলো প্যান্ডেল, আর অতিথিদেরও জানিয়ে দেওয়া হলো—মাহফিলে আসার প্রয়োজন নেই?
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজার অংশ নেওয়ার কথা থাকা তাফসির মাহফিলটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। পুলিশের নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রতিবেদন বা ছাড়পত্র না পাওয়ায় মাহফিলের অনুমতি দেয়নি উপজেলা প্রশাসন। ফলে শেষ মুহূর্তে আয়োজনটি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন আয়োজকেরা।
সোমবার, ১৯ অক্টোবর বিকেল থেকে গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে এই তাফসিরুল কোরআন মাহফিল শুরু হওয়ার কথা ছিল। মানব কল্যাণ পরিষদ নামের একটি সংগঠন এর আয়োজন করেছিল। মাহফিলকে ঘিরে আগে থেকেই বড় প্যান্ডেল নির্মাণসহ নানা প্রস্তুতি চলছিল। স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণাও চালানো হয়েছিল ব্যাপকভাবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল রেলবাজার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমান মাদানীর। প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল রাজশাহী-১, গোদাগাড়ী-তানোর আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমানকে। আর প্রধান আলোচক হিসেবে পোস্টার ও ব্যানারে নাম ছিল সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার। স্থানীয় জামায়াত নেতা ওবাইদুল্লাহরও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর মাহফিলের অনুমতি চেয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হয়। পরে শনিবার সকালে আয়োজকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাঁদের জানানো হয়, মাহফিলের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। সেই প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।
মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় মাহফিল হবে না ধরে নিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের ফোন করে বিষয়টি জানানো হয় এবং তাঁদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। এরপর মাঠে তৈরি করা প্যান্ডেল গুটিয়ে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান জানান, পুলিশের নিরাপত্তাসংক্রান্ত ছাড়পত্র ছাড়া এত বড় জনসমাগমের অনুমতি দেওয়ার নিয়ম নেই। পুলিশের প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, রাজশাহীর পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদ জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হয়ে থাকলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। অর্থাৎ, আয়োজকদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার কাছাকাছি পর্যায়ে থাকলেও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রতিবেদন না পাওয়াই মাহফিলটি স্থগিত হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এখন প্রশ্ন উঠছে, পুলিশের নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রতিবেদন কবে পাওয়া যাবে, আর ভবিষ্যতে নতুন তারিখে এই মাহফিল আয়োজনের সুযোগ তৈরি হবে কি না। এ বিষয়ে আয়োজক বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন কোনো তারিখের ঘোষণা পাওয়া যায়নি। আপাতত গোদাগাড়ীতে মুফতি আমির হামজার অংশ নেওয়ার কথা থাকা তাফসির মাহফিলটি স্থগিতই থাকছে।