দুর্গাপূজার উৎসব এখন ভক্তি, আরাধনা আর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মুখর। মহাসপ্তমী পেরিয়ে আজ মহাঅষ্টমী। সকাল থেকেই দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি

দুর্গার আগমনে মহাঅষ্টমী আজ, রামকৃষ্ণ মিশনে হবে কুমারী পূজা

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩০ সময় , আপডেট সময় : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩০ সময়

দুর্গাপূজার উৎসব এখন ভক্তি, আরাধনা আর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মুখর। মহাসপ্তমী পেরিয়ে আজ মহাঅষ্টমী। সকাল থেকেই দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিতে মন্দিরে সমবেত হচ্ছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তরা। তবে মহাষ্টমীর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ শুধু দেবীর পূজাই নয়, রয়েছে কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আয়োজন। নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা, মাতৃরূপের আরাধনা এবং অশুভ শক্তির বিনাশের বার্তা নিয়ে পালিত হচ্ছে এই বিশেষ তিথি।


সোমবার, ১৯ অক্টোবর, সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শুরু হবে মহাষ্টমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পূজা শেষে দুপুরে ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। অন্যদিকে, রাজধানীর গোপীবাগে রামকৃষ্ণ মঠে সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা। এই আয়োজনকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে রয়েছে বিশেষ আগ্রহ।


কুমারী পূজার মূল ভাবনা হলো, একজন নিষ্পাপ বালিকার মধ্যে দেবীশক্তি ও মাতৃরূপের প্রকাশ উপলব্ধি করা। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত এক থেকে ষোলো বছর বয়সী অবিবাহিত কন্যাকে দেবীজ্ঞানে পূজা করার বিধান রয়েছে। এই পূজার মধ্য দিয়ে নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, পবিত্রতা এবং মাতৃশক্তির মহিমা তুলে ধরা হয়। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, বয়সভেদে কুমারীর বিভিন্ন নাম ও রূপ কল্পনা করা হয়। এক বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধ্যা, দুই বছর বয়সীকে সরস্বতী, তিন বছর বয়সীকে ত্রিধামূর্তি এবং চার বছর বয়সীকে কলিকা নামে অভিহিত করা হয়। এভাবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেবীরূপে কুমারীর আরাধনা করা হয়। ষোলো বছর বয়সী কুমারীকে অন্নদা নামে পূজা করার বিধান রয়েছে।


কুমারী পূজার দিন নির্বাচিত বালিকাকে স্নান করিয়ে নতুন পোশাকে সাজানো হয়। কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা এবং হাতে ফুল দিয়ে তাকে সুসজ্জিত আসনে বসানো হয়। এরপর ষোড়শ উপাচারে দেবীজ্ঞানে তার পূজা করা হয়। শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি এবং দেবীর স্তোত্রপাঠে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপের পরিবেশ। মহাষ্টমীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আয়োজন সন্ধিপূজা। অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত এই পূজা দুর্গাপূজার বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সন্ধিক্ষণ অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দেবী দুর্গার বিজয়ের স্মারক। তাই ভক্তদের কাছে সন্ধিপূজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


পুরোহিতদের মতে, কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে শুধু ধর্মীয় আচার পালন করা হয় না, বরং সমাজে নারীর মর্যাদা ও সম্মান প্রতিষ্ঠার বার্তাও তুলে ধরা হয়। নারীর মাতৃরূপকে শ্রদ্ধা জানানো এবং সব নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাই এই পূজার অন্যতম তাৎপর্য। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গা ভক্তদের দুঃখ-কষ্ট, ভয় ও বাধাবিঘ্ন থেকে রক্ষা করেন। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর আগমনের সূচনা হলেও মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমীর পূজা শেষে আসে বিজয়া দশমী। এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হয়েছে ঘোড়ায় চড়ে, আর বিদায় নেবেন নৌকায়।


পঞ্জিকা অনুযায়ী, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, মহানবমী এবং বুধবার, ২১ অক্টোবর, বিজয়া দশমী পালিত হবে। দশমীতে বিকেল ৩টার পর প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে রাজধানীর পলাশীর মোড় থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে। পরে সদরঘাটের ওয়াইজ ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। মহাষ্টমীর এই পবিত্র দিনে দেবীর আরাধনার পাশাপাশি নারীশক্তির সম্মান, অশুভের বিনাশ এবং শুভশক্তির প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় মেতে উঠেছেন ভক্তরা। পূজার বাকি দিনগুলোতেও মন্দিরে মন্দিরে চলবে নানা ধর্মীয় আয়োজন, আর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ বছরের দুর্গাপূজা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯