কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই প্রশিক্ষণ এলাকা পরিণত হলো ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের স্থানে। প্রচণ্ড গতির ঝোড়ো হাওয়ায় ঘাসের আগুন ছড়িয়ে পড়ল

কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে আগুন, ৪ সেনা নিহত

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৭ সময় , আপডেট সময় : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৭ সময়

কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই প্রশিক্ষণ এলাকা পরিণত হলো ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের স্থানে। প্রচণ্ড গতির ঝোড়ো হাওয়ায় ঘাসের আগুন ছড়িয়ে পড়ল প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায়, আর এর মধ্যেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে আগুনে প্রাণ হারিয়েছেন চার সেনাসদস্য। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন, যাদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। কীভাবে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল আগুন, আর কেনই বা প্রাণঘাতী পরিস্থিতির মধ্যে পড়লেন সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সেনারা?


রোববার কর্মকর্তারা জানান, শনিবার বিকেলে কানাডার ওয়েনরাইট সামরিক ঘাঁটির একটি প্রশিক্ষণ এলাকায় ঘাসে আগুন লাগে। শুরুতে আগুনের পরিধি সীমিত থাকলেও ঘণ্টায় প্রায় ৯৬ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে আগুন প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এত অল্প সময়ে আগুনের বিস্তার প্রশিক্ষণ এলাকায় থাকা সেনাদের জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


এ ঘটনায় নিহত চার সেনাসদস্যের পরিচয় প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাঁরা হলেন সার্জেন্ট মরগান ওং, প্রাইভেট শন ফ্যারেল, প্রাইভেট এইডান গোল্ডিং এবং প্রাইভেট হেইডেন লাইকমার্ক। তাঁদের মৃত্যুতে কানাডার সামরিক বাহিনীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আগুন লাগার সময় ওই প্রশিক্ষণ এলাকায় ৮৫ জন সেনাসদস্য জীবন্ত গোলাবারুদ ব্যবহার করে উচ্চমাত্রার সামরিক অনুশীলনে অংশ নিচ্ছিলেন। তাঁদের প্রস্তুতি চলছিল লাটভিয়ায় দায়িত্ব পালনের জন্য। কানাডার সেনাবাহিনীর অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে দেশটিতে। এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের প্রস্তুতির মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটল।


আহত ৩৯ জনকে আলবার্টার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। আহতদের এডমন্টন, ওয়েনরাইট, ক্যালগারি ও রেড ডিয়ারের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আলবার্টার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত বিশেষায়িত নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।


এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দেশজুড়ে সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনের সঙ্গে এলাকার তেল-গ্যাস অবকাঠামোর কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন না। একই সঙ্গে বাইরে থেকে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছে, এমন সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন তাঁরা। তবে আগুনের প্রকৃত সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।


সব মিলিয়ে কানাডার সামরিক ঘাঁটির এই অগ্নিকাণ্ড দেশটির সামরিক বাহিনীর জন্য এক মর্মান্তিক ঘটনা হয়ে উঠেছে। চার সেনার মৃত্যু, ৩৯ জনের আহত হওয়া এবং তাঁদের মধ্যে ১৯ জনের সংকটাপন্ন অবস্থা দুর্ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরছে। এখন আহতদের জীবন রক্ষা এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার।


সূত্র: রয়টার্স।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯