এক মুহূর্তের জন্য অস্ত্র জ্যাম না হলে ঘটে যেতে পারত ভয়াবহ বিপর্যয়! মুম্বাইয়ে বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে বন্দুকধারীদের বিরুদ্ধে। মোটরসাইকেলে এসে হামলাকারীরা তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায়। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয়, ষষ্ঠবার গুলি ছোড়ার চেষ্টা করার সময় অস্ত্রটি জ্যাম হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই হামলায় অভিনেতা অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়িচালকসহ দুজন আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায়। ফুটবল মাঠ থেকে ফেরার পথে বিএমডব্লিউ গাড়িতে ছিলেন টাইগার শ্রফ। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা তিনজন হামলাকারীর মধ্যে দুজন তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায় বলে বিভিন্ন সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজের বরাতে জানানো হয়েছে। হঠাৎ এই হামলায় গাড়ির চালক ফেরদৌস গুলিবিদ্ধ হন। কাছাকাছি থাকা আরও একজন ব্যক্তিও আহত হন। পরিস্থিতি তখন ছিল অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। চালক আহত হয়ে পড়ার পর টাইগার শ্রফ নিজেই গাড়ির চালকের আসনে বসেন। এরপর দ্রুত গাড়ি চালিয়ে আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার পর অনিল পণ্ডিত নামে এক ব্যক্তি অডিও বার্তার মাধ্যমে হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠীর সদস্য পরিচয় দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে তার এই দাবির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে গোষ্ঠীটির প্রকৃত সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অডিও বার্তায় দাবি করা হয়েছে, বলিউড অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে টাইগার শ্রফের ঘনিষ্ঠতা এবং তাদের নির্দেশ অমান্য করার কারণে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে এই বক্তব্য হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অভিযুক্তের দাবি মাত্র; তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
ঘটনার পর মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। মুম্বাই পুলিশ ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালাচ্ছে। হামলার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র, হামলাকারীদের পরিচয় এবং এই ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের ভূমিকা রয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, গুলিবর্ষণের এই ঘটনায় টাইগার শ্রফ নিরাপদ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে প্রকাশ্য এলাকায় একজন জনপ্রিয় অভিনেতাকে লক্ষ্য করে এমন হামলার অভিযোগ নতুন করে তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এখন তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং আটক সন্দেহভাজনের কাছ থেকে কী জানা যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি।