ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে এবার কি নতুন পথ খুলছে? রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, রাশিয়া ও ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুরো ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েও আলোচনা করতে হবে। অন্যদিকে, আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ইউক্রেনও। তবে শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ।
বৃহস্পতিবার রুশ টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভবিষ্যৎ আলোচনায় দুই দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন। এর এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে পুতিন জানান, আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করতে প্রস্তুত রাশিয়া। তবে মস্কো কেবল অল্প সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি চায় না। তাদের লক্ষ্য, এমন একটি স্থায়ী সমাধান, যা চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির পরও রাশিয়া ও ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পুতিনের দাবি, রাশিয়া কখনো যুদ্ধ শুরু করতে চায়নি। তবে মস্কোর গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগগুলো নিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচক ফল আনতে পারে। তবে সাময়িক যুদ্ধবিরতি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
পুতিন আরও জানান, ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন স্টিভ উইটকফও। এ বিষয়ে তিনি একমত বলে জানান রুশ প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও আলোচনায় বসার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। নরওয়েতে উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, আগামী মাসের শুরুর দিকে আলোচনা হতে পারে। জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি, সংঘাতের অবসান, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ এবং মানবিক উদ্যোগ—এ ধরনের প্রস্তাবকে সমর্থন করে ইউক্রেন।
তবে আলোচনা শুরু হলেও সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ হবে না। কারণ, যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জটিল প্রশ্নগুলোর একটি হলো ইউক্রেনের ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ। রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের পুরো এলাকা ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমানে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে কিয়েভ।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা থমকে যায়। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরু হওয়ার পর সেই উদ্যোগ বাধার মুখে পড়ে। এখন রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষই আলোচনায় বসার প্রস্তুতির কথা বললেও মূল প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, ভূখণ্ডের বিরোধ এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা কতটা ছাড় দিতে রাজি হবে। আগামী মাসে আলোচনা শুরু হলে সেই জটিলতার কোনো সমাধান বেরিয়ে আসে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।