জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ব্যবহৃত মুঠোফোন ও অন্যান্য ডিভাইস তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের হাতে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন

‘জামায়াত আমিরের ডিভাইস না দেওয়ার পেছনে বড় অপরাধ লুকানোর বিষয় আছে’

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৩:৪৩ সময় , আপডেট সময় : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৩:৪৩ সময়

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ব্যবহৃত মুঠোফোন ও অন্যান্য ডিভাইস তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের হাতে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এবার এ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তার দাবি, ডিভাইস না দেওয়ার পেছনে বড় ধরনের কোনো অপরাধ লুকিয়ে থাকার বিষয় থাকতে পারে। তবে এটি তার ব্যক্তিগত অভিযোগ; তদন্তে এখনো এমন কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে একটি সংবাদ প্রতিবেদন যুক্ত করে এ মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। প্রতিবেদনটিতে জামায়াত আমিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব হ্যাক হওয়ার অভিযোগ, তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশের ডিভাইস চাওয়া এবং এ বিষয়ে জামায়াতের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়।


জামায়াত আমিরকে উদ্দেশ করে রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, যিনি কখনো মিথ্যা বলেননি বলে দাবি করেন, তিনি কেন এত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন? মুঠোফোন তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া হলে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়টি কিংবা অন্য কোনো তথ্য সামনে আসতে পারে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। এ ছাড়া শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্যের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন করেন রাশেদ খাঁন। তবে এসব বক্তব্যের পক্ষে তিনি পোস্টে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের হিসাব হ্যাক হওয়ার অভিযোগ ওঠার পর আট মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশ তার ব্যবহৃত মুঠোফোনসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস চেয়ে বাদীপক্ষকে অন্তত তিনবার চিঠি দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। ডিভাইসগুলো জব্দ করে প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক পরীক্ষা চালানোর জন্য আদালতের অনুমতিও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেগুলো এখনো তদন্ত সংস্থার হাতে পৌঁছায়নি বলে জানানো হয়েছে।


এই ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি। সেদিন জামায়াত আমিরের এক্স হিসাব থেকে ইংরেজিতে একটি পোস্ট প্রকাশিত হয়। পোস্টে নারীদের আধুনিকতার নামে ঘরের বাইরে আনার বিষয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে মন্তব্যটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এর প্রতিবাদ জানায়। পরে বিষয়টি নিয়ে রাজপথেও বিক্ষোভ হয়। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে আমিরের এক্স হিসাব হ্যাক করা হয়েছিল এবং ওই পোস্টটি সেখান থেকেই প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি এবং পরে মামলা করা হয়।


মামলায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ছরওয়ারকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তার মুঠোফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। পরদিন তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানানো হলেও একই দিন আদালত থেকে জামিন পান তিনি। এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বিতর্কিত পোস্টটি সত্যিই হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষায় কী তথ্য পাওয়া যায়। রাজনৈতিক নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের বাইরে এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পেতে তদন্তের ফলাফল ও প্রমাণ সামনে আসা জরুরি।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯