ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন বিভিন্ন রাস্তা, পথচারীদের ফুটপাত এবং পানি নিষ্কাশনের নর্দমা মেরামতে ৭১৪ কোটি টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই উদ্দেশ্যে একটি নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগামীকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, শাহবাগ, রমনা, পল্টন, শাহজাহানপুর, লালবাগ, বংশাল, যাত্রাবাড়ী ও মতিঝিল অঞ্চলের সড়ক, ফুটপাত এবং নালা সংস্কারের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। সম্পূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। আগামীকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একনেক সভায় মোট ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রকল্পের বিস্তারিত রূপরেখা
ডিএসসিসির আওতাভুক্ত প্রধান প্রধান সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ, নর্দমা সচল করা এবং ফুটপাতের আধুনিকায়নের প্রস্তাব একনেকে উত্থাপন করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত—অর্থাৎ মোট তিন বছর সময়সীমায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বহু সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে গাড়ি চলাচল এবং পয়োনিষ্কাশনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। পথচারীদের চলাচলের জন্য উপযোগী ফুটপাত তৈরি, দ্রুত পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করা এবং রাস্তার ডিভাইডারগুলো সংস্কারের মাধ্যমে এই দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের হিসাব অনুযায়ী, মোট বরাদ্দের মধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে ৪৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা এবং ডিএসসিসির নিজস্ব তহবিল থেকে ২১৪ কোটি টাকা জোগানো হবে। সরকারি তহবিলের ৬০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে এবং অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ অনুদান হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
তুরাগ নদীর বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে ড্রোনে নজরদারি
শিল্প কারখানার বর্জ্য এবং নানাবিধ দূষণ তদারকি ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে তুরাগ নদী কেন্দ্রিক ১৮৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার আরও একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। ‘মেট্রো ঢাকা পানি নিরাপত্তা ও সহনশীলতা কর্মসূচি’র অধীনে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে পরিবেশ অধিদপ্তর। চলতি ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে। এই কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে গাজীপুর সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং সাভার পৌরসভার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তুরাগ নদীর দূষণ মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হবে। নদী দূষণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে 'হটস্পট ম্যাপ' তৈরি করা হবে। পাশাপাশি নদীতে অবৈধভাবে বর্জ্য অপসারণকারী অননুমোদিত কারখানার তালিকা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্যোগটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং পরিবেশ আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। নদী দূষণ শনাক্তে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে নদীর পাড়ে বেআইনি বর্জ্য ফেলা রোধে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। সেই সাথে কারখানার বর্জ্য পানি পরীক্ষার তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, “দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, রাজউক ও জেলা প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। নিজস্ব নিয়মিত কাজ না করে কেবল প্রকল্পের ওপর নির্ভর করা দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়। সরকারি সংস্থাগুলোকে নিজ নিজ জায়গায় কার্যকর করতে পারলেই কেবল নদী দূষণ থামানো সম্ভব।”