টঙ্গীর মাদ্রাসায় সাত বছরের শিশুশিক্ষার্থীকে যৌননিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে যখন আলোচনা চলছে, তখন এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেছেন, অপরাধ করলে অপরাধীকে আইনের আওতায় আসতে হবে, আর অন্যায়ের শিকার হলে নিরপরাধ ব্যক্তির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কারও নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া উচিত নয়।
রোববার দুপুরে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌননিপীড়নের অভিযোগের আইনি দিক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনার বিচার ও প্রতিকারের জন্য দেশে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কেউ অপরাধ করে থাকলে তাঁকে সেই অপরাধের জন্য শাস্তি ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে, কেউ অন্যায়ের শিকার হলে তাঁর নির্দোষিতা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা যেন কোনোভাবেই শিক্ষকদের কাছে নিজেদের অনিরাপদ মনে না করে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষকদের প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা যেন কারও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, শিক্ষকদের ভূমিকা অনেকটা মা-বাবার মতো। তাঁরা শিক্ষার্থীদের যত্ন নেওয়া, শিক্ষা দেওয়া এবং সঠিক পথে পরিচালিত করার দায়িত্ব পালন করেন। তাই কোনো একটি বা দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে পুরো শিক্ষকসমাজকে লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি। তবে সন্তানের প্রতি কোনো ধরনের অন্যায় বা ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিলে মা-বাবার উদ্বিগ্ন হওয়াও স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল। তাঁর বক্তব্য, একদিকে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে অভিযোগের নিষ্পত্তি হতে হবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং বর্তমানে তা তদন্তাধীন। যেহেতু আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাই সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ঘটনার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে, টঙ্গীর মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অ্যাটর্নি জেনারেল দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন—শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন বজায় রাখা। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ী ব্যক্তির বিচার এবং নিরপরাধ ব্যক্তির অধিকার রক্ষার মাধ্যমেই এ ধরনের ঘটনার ন্যায়সংগত সমাধান সম্ভব।