প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের ছবি নিয়ে ফেসবুকে করা একটি মন্তব্য থেকেই শুরু হলো আইনি জটিলতা। মন্তব্যটি নিছক মজা করে

প্রধানমন্ত্রীর বাসে স্নাইপার নিয়ে মন্তব্যকারী যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:৫৮ সময় , আপডেট সময় : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:৫৮ সময়

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের ছবি নিয়ে ফেসবুকে করা একটি মন্তব্য থেকেই শুরু হলো আইনি জটিলতা। মন্তব্যটি নিছক মজা করে করা হয়েছিল বলে আদালতে দাবি করেছেন অভিযুক্ত যুবক। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহ, এর পেছনে আরও কোনো পরিকল্পনা বা ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ঘটনায় মো. আবু বকর সিদ্দিকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।


রোববার, ২৫ অক্টোবর দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপপরিদর্শক মো. ইয়াছিন পাইক, আবু বকর সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সামছুদ্দোহান সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তবে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। শুনানির সময় বিচারক অভিযুক্তের বক্তব্য জানতে চাইলে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তিনি মজা করে মন্তব্যটি করেছিলেন। তাঁর কোনো উদ্দেশ্য ছিল না এবং ভুল হয়ে গেছে। তবে তাঁর এই বক্তব্যের পরও আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য, মন্তব্যটি সাধারণ কোনো মন্তব্য ছিল না। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা জানতেই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। রিমান্ড আবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় উল্লেখ করা অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করার পাশাপাশি ঘটনার পেছনে কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র, কোনো সংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা কিংবা অস্ত্র সরবরাহকারী চক্রের ভূমিকা রয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। তবে এগুলো তদন্তকারী সংস্থার উত্থাপিত সন্দেহ ও অনুসন্ধানের বিষয়; এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।


মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর ফেসবুকের ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি প্রকাশ করা হয়। পোস্টটিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ব্যবহার করা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।


ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লেখা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিল।’ এই মন্তব্যের পর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আইডি ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাঁর বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে তাঁর সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।


গ্রেপ্তারের পর আবু বকর সিদ্দিকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। রিমান্ড আবেদনে পুলিশ দাবি করেছে, ফোনটি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্যের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মানিক হোসেন। এর আগে গত ২৩ অক্টোবর আদালত আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।


এখন সাত দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা কী তথ্য পান এবং মন্তব্যটির পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা সামনে আসার অপেক্ষা। তবে মামলার অভিযোগ, পুলিশের সন্দেহ এবং আদালতে প্রমাণিত তথ্য—এই তিনটির মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো অভিযোগকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯