প্রথম ধাপের ভোটে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত নাটকীয় প্রত্যাবর্তন! ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রোববারের নির্বাচনে ৫১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন ৮০ বছর বয়সী এই রাজনীতিক। তাঁর এই বিজয় ব্রাজিলের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ভোটে লুলা পেয়েছেন ৫১ শতাংশের বেশি ভোট। অন্যদিকে, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোট। ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেকটোরাল কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, লুলার পক্ষে পড়েছে ৬ কোটি ৪০ লাখের বেশি ভোট। আর বলসোনারো পেয়েছেন ৫ কোটি ৯০ লাখের কিছু বেশি ভোট।
তবে এই জয় সহজে আসেনি লুলার জন্য। নির্বাচনের প্রথম ধাপে তিনি পেয়েছিলেন ৪৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে, বলসোনারো পেয়েছিলেন ৪৭ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ প্রথম ধাপেই এগিয়ে ছিলেন ডানপন্থী প্রার্থী। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ব্যবধান ঘুচিয়ে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাসি হাসেন লুলা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রাজিলের আধুনিক নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথম ধাপে পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয় ধাপে জয়ী হওয়ার এমন ঘটনা এই প্রথম। আগামী ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি চতুর্থ মেয়াদে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে লুলার। তবে নতুন মেয়াদে তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে বেশ কিছু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ডানপন্থীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার পরিচালনা করতে হবে তাঁকে।
বিজয়ী ভাষণেও এই বাস্তবতার কথা স্বীকার করেছেন লুলা। তিনি জানেন, নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইনপ্রণেতাদের সমর্থন পাওয়া সহজ হবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় কর্মসপ্তাহের দৈর্ঘ্য কমানো এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। ফলে নতুন সরকারের নীতিগত পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে থাকবেন দেশটির কোটি কোটি মানুষ। এদিকে লুলার বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম এবং মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তবে নির্বাচন ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ভোটের দিন পরিবহনসংকট ও ভারী বৃষ্টির কারণে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই ঘণ্টা বেশি ভোটগ্রহণ চালু রাখা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছেন পরাজিত প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। তাঁরা ভোটের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে আইনি জটিলতার অভিযোগ তুলেছেন।
উল্লেখ্য, ফ্লাভিও বলসোনারোর বাবা জাইর বলসোনারো অভ্যুত্থানচেষ্টার অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতীতে ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের ওপর বিভিন্ন শুল্কও আরোপ করেছিল। সব মিলিয়ে লুলার এই বিজয় শুধু একটি নির্বাচনী জয় নয়, বরং ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এখন দেখার বিষয়, বিরোধীদের শক্তিশালী অবস্থানের মধ্যেও তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন করতে পারেন।
সূত্র: আল জাজিরা।