ভারতকে পেছনে ফেলে মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাংলাদেশ! আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর মাথাপিছু

মাথাপিছু আয়ে ভারতকে পেছনে ফেলছে বাংলাদেশ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৬ সময় , আপডেট সময় : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৬ সময়

ভারতকে পেছনে ফেলে মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাংলাদেশ! আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর মাথাপিছু জিডিপিতে প্রতিবেশী ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশ। কিন্তু এই পরিসংখ্যানের আড়ালে রয়েছে এক ভিন্ন বাস্তবতা—মাথাপিছু আয় বাড়লেও কেন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমছে না? আর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দৌড়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ব্যবধানই বা কতটা?


আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৮৮৬ মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ২ হাজার ৭৪৯ ডলার। অর্থাৎ এই হিসাবে ভারতের চেয়ে প্রায় ১৩৭ ডলার এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। তবে সামগ্রিক অর্থনীতির আকারের দিক থেকে ভারত বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় আট গুণ বড়। বিশাল জনসংখ্যার কারণে মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন হতে পারে। স্বাধীনতার পর বিশেষ করে গত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে।


এই অগ্রগতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তৈরি পোশাকশিল্প, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ। প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। পাশাপাশি প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ও অসংখ্য পরিবারের জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কিন্তু মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা থাকলেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে বাংলাদেশের জন্য রয়েছে উদ্বেগের বার্তা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হতে পারে। বিপরীতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে।


এখানেই শেষ নয়, মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার হিসাবেও ভারত এগিয়ে রয়েছে। অর্থাৎ স্থানীয় বাজারে পণ্য ও সেবার দাম বিবেচনায় ভারতীয়রা তুলনামূলকভাবে বেশি পণ্য কেনার সামর্থ্য রাখতে পারেন। অন্যদিকে বাংলাদেশে প্রায় ৮ দশমিক ৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ব্যয় সামলানোর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে আয় বাড়লেও অনেক পরিবারের পক্ষে আগের মতো জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে। দুই দেশের অর্থনীতির কাঠামোতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। অন্যদিকে ভারতের অর্থনীতি প্রযুক্তি, সেবা খাত, শিল্প এবং বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দুই দেশের চ্যালেঞ্জও এক রকম নয়।


এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে অনিশ্চয়তা। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর ঘিরে পরিবহন বিঘ্নিত হলে জ্বালানি আমদানি এবং পণ্য রপ্তানির ব্যয় বাড়তে পারে। বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর বাংলাদেশের ব্যাপক নির্ভরতা থাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে শিল্প উৎপাদন, পরিবহন এবং তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাসে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, আগামী কয়েক বছরে দুই দেশের মাথাপিছু আয়ের ব্যবধান পরিবর্তিত হতে পারে। ২০২৯ সালের দিকে ভারত আবারও মাথাপিছু আয়ে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মাথাপিছু জিডিপি একটি গড় হিসাব। এটি দিয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের প্রকৃত আয় কিংবা জীবনযাত্রার মান বোঝা যায় না। আয়বৈষম্য, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় এবং মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতাও অর্থনৈতিক অগ্রগতি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। তাই মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক খবর হলেও, সেই অগ্রগতির সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা পৌঁছাচ্ছে, সেটিই হবে বড় প্রশ্ন। কারণ অর্থনীতির সাফল্য শুধু পরিসংখ্যানে নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি ফেরানোর মধ্য দিয়েই সবচেয়ে ভালোভাবে পরিমাপ করা যায়।


সূত্র: আল-জাজিরা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯