বিশ্বে কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান মাত্র শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলা করতে গিয়ে

কোনো অনুদান নয়, জলবায়ু তহবিলে প্রাপ্য অধিকার চান চিফ হুইপ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:৭ সময় , আপডেট সময় : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:৭ সময়

বিশ্বে কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান মাত্র শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলা করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। উপকূলীয় অঞ্চলে বাড়ছে পানির লবণাক্ততা, দেখা দিচ্ছে সুপেয় পানির সংকট, আর বন্যায় ভেসে যাচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসল। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনুদান নয়, বরং বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।


রোববার, ২৫ অক্টোবর রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। ‘আজকের প্রজন্ম ফোরাম’ আয়োজিত এবং ‘ইয়ং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক’-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সভার বিষয় ছিল, আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এ বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও বৈশ্বিক জলবায়ু কার্যক্রম। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের কারও করুণা কিংবা অনুদানের প্রয়োজন নেই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের যা প্রাপ্য, সেই জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান সামান্য হলেও প্রায় ২০ কোটি মানুষের এই দেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।


বিশেষ করে বরগুনা ও খুলনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, নদীর পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় সুপেয় পানির সংকট তীব্র হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় কৃষি ও মৎস্যসম্পদ। অন্যদিকে, প্রতি বছর বন্যায় মানুষের ঘরবাড়ি, ধানের ফসল, গবাদিপশু ও বসতভিটা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণের প্রসঙ্গ টেনে চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে এমন ক্ষতির মূল্য দিতে হচ্ছে, যার জন্য বৈশ্বিক নিঃসরণে দেশের অবদান খুবই সামান্য। তার মতে, জলবায়ু তহবিলের অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেসব অপ্রয়োজনীয় জটিলতা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত দূর করা দরকার।


তিনি আরও বলেন, জলবায়ু তহবিলের অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে যেন সরাসরি সহায়তার অর্থ পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। আসন্ন আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এ বাংলাদেশের দাবি ও অগ্রাধিকার জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বানও জানান তিনি। নূরুল ইসলাম মনির মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। বিশেষ করে দেশের তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের দাবির পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রাখতে হবে।


আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, ইউনেস্কো বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি সোনালী দয়ারত্নে। এ সময় আয়োজক সংগঠনের প্রতিনিধি, তরুণ প্রতিনিধি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশের দায় সামান্য হলেও ক্ষতির বোঝা বহন করতে হচ্ছে দেশটির মানুষকে। তাই বাংলাদেশের দাবি—সহানুভূতি নয়, ন্যায্যতা; প্রতিশ্রুতি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে কার্যকর সহায়তা পৌঁছানো।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯