বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়বে কি না, আর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক কোন নতুন পর্যায়ে পৌঁছাবে—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের প্রতিনিধিদল

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:৫৪ সময় , আপডেট সময় : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:৫৪ সময়

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়বে কি না, আর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক কোন নতুন পর্যায়ে পৌঁছাবে—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর বৈঠকে উঠে এসেছে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো। বিনিয়োগ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ ও জাপানের প্রতিনিধিরা।


সোমবার, ২৬ অক্টোবর জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এর নেতৃত্ব দেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসো। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখার জন্য তারো আসোকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০০৬ সালে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে জাপান সফরের সময় তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন তারো আসো।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার সময় তারো আসো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন। তার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়তা করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বৈঠকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তারো আসো বলেন, দেশটির বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। এ কারণে জাপানি কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ রয়েছে বলেও জানান তিনি।


জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে তাঁর সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে কিছু আইনি পরিবর্তনও আনা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে তারো আসোর সহযোগিতা চান। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।


বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উপদেষ্টারা। জাপানের প্রতিনিধিদলে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি এবং দেশটির সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা।


সব মিলিয়ে, এই বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের উদ্যোগগুলো বাস্তবে কতটা নতুন জাপানি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯