ঢাকার রাজপথ ও ফুটপাত দখল করে আর বসতে পারবেন না হকাররা! তবে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়াই শেষ কথা নয়, নির্ধারিত নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসা করার সুযোগও দেওয়া হবে। রাজধানীর যানজট, ফুটপাত দখল আর সাধারণ মানুষের চলাচলের ভোগান্তি কমাতে এবার কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন?
সোমবার, ২৬ অক্টোবর সকালে রাজধানীর কলাবাগানের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় নাগরিক সমাজের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, রাজধানীর রাজপথ দখল করে কোথাও হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে নির্ধারিত নিয়মের আওতায় ব্যবসা পরিচালনার ব্যবস্থা করা হলে ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে ফুটপাত পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও নিতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।
নিউমার্কেট এলাকার সড়ক ও ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় সাধারণ মানুষ চলাচলে ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে উল্লেখ করেন প্রশাসক। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে দ্রুত বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ সময় নির্ধারিত ব্যবস্থায় ব্যবসা পরিচালনার উদাহরণ হিসেবে মতিঝিলের নৈশকালীন মার্কেটের কথা তুলে ধরেন তিনি। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার অন্যতম বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে বলেও জানান আব্দুস সালাম। নগরবাসী সেবা পেতে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে তা কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
একই অনুষ্ঠানে রাজধানীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, সীমিত জনবল ও সক্ষমতা দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের সেবা নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আগের সরকারের সময় আর্থিক অনিয়ম ও তহবিলের অপব্যবহারের কারণে সংস্থাটির আর্থিক সক্ষমতাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মন্ত্রী আরও জানান, কোন এলাকায় উন্নয়ন বেশি জরুরি, তা বিবেচনা করে কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। ব্যক্তি বা এলাকার পরিচয়ের পরিবর্তে জনস্বার্থ ও প্রকৃত প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
রাজধানীকে আরও বাসযোগ্য করতে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি। এখন দেখার বিষয়, হকারদের জন্য নির্ধারিত ব্যবসার ব্যবস্থা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়। কারণ, একদিকে হকারদের জীবিকা, অন্যদিকে নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই হবে এই উদ্যোগের বড় চ্যালেঞ্জ।