নতুন বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ যে পরিমাণ অর্থ পাচ্ছে, তার দ্বিগুণেরও বেশি চলে যাচ্ছে পুরোনো ঋণের আসল ও

বিদেশি ঋণের অর্থ ছাড়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি পরিশোধ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১১:৪৫ সময় , আপডেট সময় : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১১:৪৫ সময়

নতুন বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ যে পরিমাণ অর্থ পাচ্ছে, তার দ্বিগুণেরও বেশি চলে যাচ্ছে পুরোনো ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এমন চিত্র উঠে এসেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদনে। একদিকে বিদেশি সহায়তার প্রকৃত অর্থ ছাড় কমেছে, অন্যদিকে বেড়েছে ঋণ পরিশোধের ব্যয়। ফলে দেশের বৈদেশিক অর্থায়ন পরিস্থিতিতে চাপ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।


অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যয় করেছে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। বিপরীতে, একই সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে পাওয়া গেছে মাত্র ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, নতুন সহায়তা হিসেবে পাওয়া অর্থের তুলনায় ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধের ব্যয়ও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ১২৭ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলারে। এক বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।


ঋণের আসল ও সুদ—দুই ক্ষেত্রেই ব্যয় বৃদ্ধির চিত্র দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ঋণের আসল পরিশোধ করা হয়েছে ৮৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৮১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অন্যদিকে, ঋণের সুদ পরিশোধেও ব্যয় বেড়েছে। গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে সুদ বাবদ ব্যয় হয়েছিল ৪৬ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ডলার।


তবে ঋণ পরিশোধের ব্যয় বাড়লেও একই সময়ে বৈদেশিক সহায়তার প্রকৃত অর্থ ছাড় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশ পেয়েছিল ১১৪ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার। চলতি অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড় কমেছে প্রায় ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পাওয়া সহায়তার মধ্যে ৫৪ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার ছিল ঋণ এবং ১১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার ছিল অনুদান। ফলে মোট সহায়তার বড় অংশই ঋণ হিসেবে এসেছে, যা ভবিষ্যতে পরিশোধের দায় তৈরি করবে।


তবে এই পরিস্থিতির মধ্যে ইতিবাচক একটি দিকও রয়েছে। নতুন বৈদেশিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশকে ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ঋণ ও অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।


নতুন প্রতিশ্রুতির মধ্যে ১১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার ঋণ এবং ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার অনুদান হিসেবে দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি বাড়লেও বাস্তবে অর্থ ছাড় কমে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে বড় ব্যবধান। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি ও প্রকৃত অর্থ ছাড়ের মধ্যে এই ব্যবধান বৈদেশিক অর্থায়ন পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। একই সময়ে পুরোনো ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় বাড়ায় সরকারের ওপর আর্থিক চাপও বেড়েছে। এখন বড় প্রশ্ন হলো, প্রতিশ্রুত বৈদেশিক সহায়তা কত দ্রুত বাস্তবে পাওয়া যাবে এবং ঋণ পরিশোধের বাড়তি চাপ সামলে সরকার কীভাবে উন্নয়ন কার্যক্রমে অর্থায়ন অব্যাহত রাখবে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯