দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা এসেছিল গত ১৫ অক্টোবর। বিদেশে কাজের

ঘোষণার ১২ দিনেও কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়নি

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:৫১ সময় , আপডেট সময় : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:৫১ সময়

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা এসেছিল গত ১৫ অক্টোবর। বিদেশে কাজের আশায় থাকা হাজারো মানুষের মধ্যে এতে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়। কিন্তু ঘোষণার ১২ দিন পার হলেও এখনো শুরু হয়নি কর্মী পাঠানোর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। অভিবাসন ব্যয় কত হবে, কোন এজেন্সি কী দায়িত্ব পালন করবে এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা কোথায় হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


নতুন ব্যবস্থাপনায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলসহ ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি এবং ২৫টি প্রসেসিং এজেন্সিকে যুক্ত করার কথা জানানো হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, কর্মীদের মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা খরচ হবে এবং কারা বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগ পাবেন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।


কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের ভাষ্য, স্বাস্থ্য পরীক্ষার স্থান, অভিবাসন ব্যয় এবং কর্মী নিয়োগের ধাপ সম্পর্কে এখনো তাঁদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। ফলে দায়িত্ব পাওয়ার পরও অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরু করতে পারছে না। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সদস্যদের অভিযোগ, শুধু শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা দিলেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় না। নিয়োগের নিয়ম, এজেন্সিগুলোর দায়িত্ব এবং কর্মীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের পরিমাণ স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।


ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে ১০০টি প্রসেসিং এজেন্সি ছিল, এবার সেখানে ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে রাখার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে আট শতাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির পরিবর্তে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ৩১২টি প্রতিষ্ঠানকে। নতুন ব্যবস্থায় কর্মী পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিকে প্রসেসিং এজেন্সি অথবা বোয়েসেলের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিতে হবে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন জনশক্তি রপ্তানিকারক। তাঁদের আশঙ্কা, একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অন্য প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল হলে মধ্যস্থতাকারীদের প্রভাব বাড়তে পারে এবং কর্মী নিয়োগে জটিলতা তৈরি হতে পারে।


এদিকে, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত কর্মী নিয়োগবিষয়ক সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচনের দায়িত্ব মালয়েশিয়া সরকারের হাতে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থার কারণে মালয়েশিয়ার নির্ধারিত শর্ত পরিবর্তন করা বাংলাদেশের জন্য সহজ নাও হতে পারে।


বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী জানিয়েছেন, শ্রমবাজার চালুর সিদ্ধান্তকে তাঁরা স্বাগত জানালেও কর্মী পাঠানো কবে শুরু হবে এবং কী পদ্ধতিতে নিয়োগ কার্যক্রম চলবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তাঁর মতে, এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা না থাকায় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ২৫টি চিকিৎসাকেন্দ্রকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। এ নিয়ে কাজ চলছে। চলতি সপ্তাহ অথবা আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রত্যেক কর্মীকে কত টাকা ফি দিতে হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।


মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু প্রক্রিয়াগত জটিলতা এখনো রয়ে গেছে। সেগুলো দ্রুত সমাধান করা গেলে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে কর্মী পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীরের মতে, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নপদ্ধতি স্পষ্ট করার আগেই শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, দুই দেশের বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তা পর্যালোচনা করে নতুন চুক্তিতে কর্মী নিয়োগের নিয়ম, এজেন্সির অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো স্পষ্ট করা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে শ্রমবাজার পুরোপুরি চালু হতে ডিসেম্বর বা জানুয়ারি পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।


সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার ঘোষণা এলেও বাস্তবে কর্মী পাঠানো শুরুর সময় এখনো নিশ্চিত নয়। কর্মীদের অভিবাসন ব্যয়, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, এজেন্সি নির্বাচন এবং নিয়োগের স্বচ্ছ নিয়ম চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিদেশে কাজের প্রত্যাশায় থাকা মানুষের অনিশ্চয়তা কাটছে না।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯