ইসরায়েলের রাজনীতিতে বড় ধরনের পালাবদলের ইঙ্গিত! প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বেয়াহাদ পার্টির প্রধান নাফতালি বেনেট। বুথফেরত সমীক্ষায় নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৬৮ থেকে কমে ৫০-এ নেমে আসার পূর্বাভাসের পরই এমন মন্তব্য করেন তিনি। তবে এটি চূড়ান্ত ফলাফল নয়; প্রকৃত ফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত।
মধ্যরাতের পর তেল আবিবে নিজ দলের সদর দপ্তরে উপস্থিত হয়ে নাফতালি বেনেট বলেন, ইসরায়েলের জনগণ নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তাঁর দাবি, যারা সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন, তাদের পক্ষে থাকা জোট সামরিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত পক্ষের জোটকে পরাজিত করেছে। বেনেট আরও বলেন, জনগণ জেগে উঠেছে এবং নিজেদের মতামত জানিয়েছে। তাঁর ভাষায়, নেতানিয়াহু পরাজিত হয়েছেন এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার সময় ক্ষমতায় থাকা সরকার বিদায়ের পথে। তবে এসব বক্তব্য বুথফেরত সমীক্ষার ভিত্তিতে দেওয়া রাজনৈতিক দাবি, চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল নয়।
সমীক্ষার পূর্বাভাসে বিরোধী শিবিরেও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গ্যাডি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি বিরোধী জোটের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, নাফতালি বেনেটের বেয়াহাদ পার্টি ১২ থেকে ১৩টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে ফলাফল নিয়ে সতর্ক অবস্থানও জানিয়েছেন বেনেট। তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে, কারণ এখনো অনেক কিছু পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে পরিবর্তনপন্থী জোটের নেতারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও সমন্বয় চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
নেতৃত্বের পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে বেনেট বলেন, জনগণের দুর্ভোগের কথা শোনে এবং তাদের পাশে দাঁড়ায়—এমন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান তাঁরা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সেই নেতৃত্বকে পার্লামেন্ট থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ একসঙ্গে বেয়াহাদ পার্টি গঠন করেন। এর আগে লাপিদ ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইয়েশ আতিদ পার্টির নেতৃত্বে ছিলেন। অতীতেও নেতানিয়াহুর বিরোধিতায় বেনেট ও লাপিদের মধ্যে রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে বেনেট রাজনীতি থেকে বিরতি নিলেও আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
সব মিলিয়ে বুথফেরত সমীক্ষার এই পূর্বাভাস ইসরায়েলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে নেতানিয়াহুর জোট সত্যিই ক্ষমতা হারাচ্ছে কি না, বিরোধীরা সরকার গঠনের মতো সমর্থন পাবে কি না—সেসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর।