সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে কোনো ধরনের মব বা বেআইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না, বরং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে হবে—এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর এই বক্তব্যের পাশাপাশি দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা এবং পুলিশের মহাপরিদর্শকের ক্রসফায়ার সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি দেশে ফিরলে বিচারের মুখোমুখি হবেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং দেশে ফেরার পর তাঁর বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় যা হওয়ার, তা-ই হবে। তবে দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা বেআইনি পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচনা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কখনো ডিসেম্বর, কখনো জুন—এভাবে তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকে। তিনি দেশে ফিরলে সরকার খুশি হবে বলেও মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান। তাঁর বক্তব্য, এতে তাঁকে জোর করে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিস্থিতি তৈরি হবে না।
এ প্রসঙ্গে অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পরও তিনি দেশে ছিলেন, কারাবরণ করেছেন এবং নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তথ্য উপদেষ্টা। সে সময়ও পুলিশ স্বাভাবিকভাবে থানায় দায়িত্ব পালন করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শেখ হাসিনার অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি অন্যদের প্রতি ন্যায়বিচার করেননি বলে তাঁর অভিযোগ। তবে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনাও উঠে আসে। এ বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সামনে আসা তথ্যে একটি রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার কথা জানা গেছে। ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, একজন মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কেউ ভালোভাবে নেননি। অতীতেও বিচার ও রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে মৃত ব্যক্তিদের মরদেহের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ঘটনা ঘটেছে। এমন আচরণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শেষ পর্যন্ত সামাজিকভাবে নিন্দিত করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে দেশে উগ্রবাদী ও চরমপন্থি গোষ্ঠীর তৎপরতা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং আইজিপির ক্রসফায়ার সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কও সংবাদ সম্মেলনের আলোচনায় আসে। সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে সরকারের বক্তব্যে আইনি প্রক্রিয়া ও ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলেছেন তথ্য উপদেষ্টা।