হন্ডুরাসের উত্তরাঞ্চলীয় দু’টি শহরে রাতে পৃথক দুটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। সহিংসতা বাড়তে থাকায় রোববার (২৫ জুন) দেশটির সরকার শহর দু’টিতে কারফিউ জারি করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পুলিশের মুখপাত্র এদগারদো বারাওনা জানিয়েছেন, শনিবার রাতে উত্তরাঞ্চলীয় শিল্পনগরী চোলোমাতে বিলিয়ার্ড খেলার একটি হলে হামলার ঘটনা ঘটে, ব্যাপক অস্ত্রে সজ্জিত ব্যক্তিদের গুলিতে ১৩ জন নিহত ও আরেকজন গুরুতর আহত হন।
তিনি জানান, উত্তরাঞ্চলের আরেক শিল্পনগরী সান পেদ্রো সুলাইসহ দে সুলা উপত্যকা এলাকায় পৃথক হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় আরও অন্তত ১১ জন নিহত হন।
চোলোমাতে নিহতদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও একজন নারী। তারা জন্মদিনের একটি অনুষ্ঠানে ছিলেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।
হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট শিওমারা কাস্ত্রো চোলোমায় ১৫ দিনের জন্য রাত ৯টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত কারফিউ জারির ঘোষণা দিয়েছেন যা রোববার থেকেই কার্যকর হবে। আর হন্ডুরাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সান পেদ্রো সুলাইতে এ ঘোষণা ৪ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
কাস্ত্রো বলেছেন, “মাদকের হোতাদের পরিচালনায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভাড়াটে খুনিরা এসব নৃশংস ও বেপরোয়া সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে।”
অপরাধী দলগুলোর সহিংসতা ও লড়াই ঠেকানোর জন্য ডিসেম্বর থেকে হন্ডুরাসের কয়েকটি অংশে জরুরি অবস্থা জারি আছে।
দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী গুস্তাভো সানচেজ পরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, সুলা উপত্যকায় অতিরিক্ত ১০০০ পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্য পাঠানো হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট কাস্ত্রো জানান, তার সরকার চোলোমার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও ধরতে সহায়তা করার জন্য আট লাখ লেম্পিরাস (৩২৭০৭ ডলার) নগদ পুরস্কার ঘোষণা করছে।
গত সপ্তাহে হন্ডুরাসে নারীদের একটি কারাগারে দাঙ্গায় অন্তত ৪১ জন নিহত হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।